মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪

তোমার আমার দূরত্ব

অনেক কাছে তুমি 
কিন্তু অনেক দূরে
ঠিক যেন আকাশের চাঁদ।

চোখের দৃষ্টিতে চাঁদ আমার অনেক কাছে
কিন্তু হাত বাড়ালেই অনেক দূরে।

ইচ্ছে হয় চাঁদকে ছুঁই 
আদর দেই মন ভরে
কিন্তু ব্যাপক দূরত্বের পরিধি।

দূরত্ব ঠিক ততটা 
যতটা দূরত্ব দিনের সাথে রাতের।

ক্রমান্নয়ে দূরত্ব আরও বেরেই চলছে,
আমি যত কাছে যেতে চাই 
ততই দূরে সরে যাচ্ছো তুমি।

মৃত্যূর পূর্বে

এই তো আর ক'টা দিন বাকি
তারপর মৃত্যূর সাগরে আমি নৌকা ভাসাবো,
পাড়ি জমাবো যেখানে প্রাণের শেষ।
জীবনের নৌকাকে গাঁটে লাগিয়ে
হাত ধোঁবো জীবনের গোলকধাঁধা হতে।
বেঁচে থাকার বিষাক্ত স্বাদ নিয়ে
আমি একাকী চাঁদ হতে চাইনা,
আমি সূর্য হয়ে সবকিছু জ্বালিয়ে পুরিয়ে দিতে চাই।
তিলে তিলে জ্বলত্ব মোমবাতির মতন নিঃশেষ হতে চাই,
কয়েকটা দিনের জন্য সবাইকে দেখিয়ে দিতে চাই আমিও জীবন্ত প্রাণী ছিলাম।

আরেকটি ভুলের অপেক্ষায়

ভুল করে হলেও আরেকটি বার ফিরে এসো
আরেকটি বার ডাক দাও আমার নাম ধরে
বল আমি ফিরে এসেছি চিরদিনের জন্য।
বল আর প্রস্থান নয়, 
আজকের পর থেকে শুধু তুমি আর আমি,
কোনো তৃতীয় মানুষ রবে না আমাদের মধ্যে।
আজ হবে শুধু আমাদের দিন,
আমরা রাত্রি জাগবো, কথা বলবো,
আকাশ দেখবো, তারা গুনবো।
নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে থাকবো দুজন দুজনার দিকে,
চোখে চোখ রেখে চোখের ভাষায় কথা বলবো,
ভোর হবে অথচ নিঘুম আমরা দুজন 
রব একে অন্যের প্রেমের ঘুমে।

সুনয়না তুমি একজনা

চোখ তার কথা বলে, কথা বলে চোখের মনি,
চোখের পাতায় পদ্মফুল দিয়ে যায় হাতছানি।
বাতাসে হাঁটে মুগ্ধ সুবাস, কাজলে হাসনাহেনা,
চোখ তার কালো হরিণী, নাম তার চিরচেনা।
সুনয়না নাম দিলাম সুনয়নে তৃপ্ত হয়ে,
নয়ন জোরায় গভীর পিপাশায় তৃষ্ণার্ত মন নিয়ে।
মনের কথা মনেতেই থাক, ভালো থাক সুনয়ন,
শ্রেষ্ঠ হোক তোমাতে কবিতার সব চরণ।
কবিতা লিখি কিভাবে তোমার চোখে রেখে আঁখি,
তোমার চোখের ভাষা আজও পড়ার রয়েছে কিছু বাকি। 
কি আছে লেখা তোমাতে মায়াবী তোমার দু'চোখে,
মনের কথা প্রেমের ভাষায় কি করে বলি আর কাকে। 
যাকে বলি সেও বলে মুগ্ধ তোমার আঁখি,
তাই তোমায় আজিকে কবিতায় লিখে রাখি।
কবিতা আমার বর্ণহীন, ভাষাহীন এক দ্বীপ,
ভালো লাগে মধ্য নয়নে সূর্য লাল টিপ।
ভালো লাগে হাতের চুড়ি ঝন-ঝনাঝন বাজে,
ব্যস্ত আমি কবিতায় তারই রূপের মাঝে।
রূপ তার মুক্ত পাখি উন্মুক্ত কবিতার খাতায়,
মিষ্টি হাসি প্রাণনাশী অনুরাগী কাব্য ভাসায়।

শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৪

অনাবশ্যক ভালোবাসা

আমি কারো ভালোবাসা চাই না,
আমি চাই না কেউ একজন আসুক আমার জীবনে,
চাই না সে এসে আমাকে ভালবাসুক,
আমাকে জড়িয়ে ধরুক। 

আমার কপালে তার হাত বুলানোর নেই কোনো প্রয়োজন,
নেই অযথা তাকে আমার চুমু দেয়ার প্রয়োজন। 

বিকেলে পথের ধারে একসাথে ফুচকা খাবো, 
অসম্ভব, আমি পারবো না।

প্রেমের মিষ্টি মিষ্টি কথা এইসব অযথা,
ভালো লাগেনা ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলা।

কি দরকার তার মিথ্যে রূপের প্রসংশা করা,
রোজ রাতে ঘুমের ঘোরে তার সাথে দেখা করা।

কি দরকার এইসবের, 
অপ্রয়োজনে রাত্রি জাগা,
তার ভাবনায় জল ঝরিয়ে চোখ লাল করা, 
গুরুত্বহীন যত কর্মকান্ড।

আমি চাইনা এইসবের, 
চাইনা প্রেমের রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকি,
পারবো না শ্লোগান দিয়ে বলি 
ভালোবাসি তোমাকেই।

এইসব আমার কাজ না
আমি কারো প্রেমিক হতে চাই না
কারো ভালোবাসা তাও চাইনা,
আমি একাই নিজের জন্য ভালোবাসা জন্ম দেই,
আমি একাই পারি নিজেকে ভালোবাসতে।

কেন নেবো তাহলে অন্যজনের ভালোবাসা?

বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৪

অবুঝ বালিকা

মন বালিকার অবুঝ বড্ড
বুঝেনা কোনো বারণ,
অল্প বয়সে চঞ্চল সে
একটাই সেই কারণ।
মনের বয়স শিশু হয়ত
উদ্দিপনায় উড়ে পাখি,
বালিকা তোমার কৃষ্ণকালো
ভ্রুমর প্রিয় আঁখি।
গভীর ঘোরে ব্যস্ত অধর
পুষ্প স্মিগ্ধ স্পর্শ,
একে একে তোমার প্রতীক্ষায়
পালিয়েছে দীর্ঘ বর্ষ।
বালিকা তোমার চঞ্চল মন
স্থীর আমার মনে,
সেই ভাবনায় ভাবুক আমি 
প্রেম দেখি মোর নয়নে।
সেই প্রেম দেখোনা তুমি
অবুঝ বালিকা হয়ত তাই,
রঙ্গ-তুলিতে তোমার বুলি
মনশ্চুক্ষুতে রোজ সাজাই।


মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৪

প্রণয়ী মোর কবি

ভালবাসি সুখ, হাসিমাখা মুখ
ভালবাসি সবই,
আকাশের মেঘ, চোখ তুলে দেখ
কলম হাতে সেজেছি কবি।
হাতে রেখে হাত, কাটিয়েছি রাত
দেখেছি আকাশ নীল, 
করেছিল মানা, দিয়েছিল হানা
স্বপ্ন যত স্পনীল।
সে ছিল বাঁধন হারা, বলেছি একটু দাঁড়া
দিয়ে যা একটু দেখা,
সময় হয়নি তার, কষ্টের সমাহার
চলে গেল সে একা। 
আমায় নিল না সঙ্গে, রূপ তার অঙ্গে
রূপসী অভিমানী,
নিঠুর পরিচয়, ভাবের বিনিময়
কল্পনাতে রাজরাণী।
আমি ডাকি, প্রেম পাখি
ধরা দিয়ে যাও বুকে, 
সে বলে, নিজের ছলে
পাবো না কেউ তাকে।
আমি কেন বলি, পুষ্প কলি
তুমি কি নও কারো,
সে বলে শোনো, স্বপ্ন কেন বুনো
কল্পনায় প্রেম কেন গড়ো। 
আমি নউ তার, যে মেনে নেয় হার
যে কাপুরুষ-ভীতু,
আমি হব এক, রক্তাক্ত বিবেক,
হবো না প্রিয় ঋতু।
আমি শুনি তার কথা, যে লিখে যায় কবিতা
লিখে জীবনের গল্প, 
তার কাছে আমি, বড্ড দামী
সহজলভ্য নই অল্প।
যে ভালবাসে, লুকিয়ে হাসে
নিরবে ভেজায় চোখের পাতা,
যে স্বপ্ন বুনে, দূরত্ব মানে
শোনে না বলা যত কথা। 
যে নিরব, করে কলরব
করে যা অসাধ্য,
যার কাছে সুখ, ক্ষণস্থায়ী রোগ
যার কাছে প্রেয় নয় খাদ্য।
আমি হব তার, করবো পারাপার
হব তার স্বপ্ন বালিকা, 
তার হৃদয় আমার বাড়ী, আমি হব তার নারী
আমার নিয়ে হবে তার সব লিখা।
তার জীবনে, তার প্রতিক্ষণে
আমি হব তার ছন্ধ,
সে লিখবে, অগুছালো স্বরে বলবে
আমাতে তার ভাবনা প্রবন্ধ।