বুধবার, ৭ মে, ২০১৪

ব্যাকরণে আমার ব্যবহার

একদিন আমি মাতাল হব 
পান করে মদ,
ভুলে যাব ব্যাকরণ
সমাস সন্ধি পদ।

যতি চিহ্নের আজিকে 
হবেনা ব্যবহার,
ধাতুর সাথে মিশিয়ে খাবো 
কাঁচা আমের আচার।

ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার 
অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ,
পাগুটাদিপতি নিয়ে 
বিভক্তির মতামত।

ণত্ব-ষত্ব বিধান নিয়ে 
রচনা করিবো রচন,
সংখ্যা নিয়ে গবেষণা 
করিলো পন্ডিত বচন।

ভাব-সম্প্রসারণ কী আবার
ভাষা কাকে বলে,
গুরুচন্ডালী দোষে দূষিত কবিতা
আজকে কেমনে চলে।

আমার মনের শত রূপকথা

আমার মনের শত রূপকথা 
কী করে বলবো মানবের ঘরে,
রংধনু হয়ে হাহাকার শুধু 
গভীর মনের ছোট্ট নীড়ে।
বৃষ্টি হয়ে পরলো ঝড়ে 
ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো,
কি করে বলি আমার মনে
বসত করে বৃত্তকার এক চক্র।
কত কথা বলে হাজারো ভাবে
হাজারো সূরে মনের মানব,
আপন জাদুতে বানালাম তাকে
বিলিয়ে নিজের যতসব।
শিখিয়ে দিলাম তাকে অতি আদরে
সৃষ্টার সৃষ্টির লুকায়িত মন্ত্র,
বলে দিলাম সেই সাথে কী রূপে
ধ্বংশ হবে যন্ত্র মানবের যন্ত্র।
আমার মন্ত্রে আমারি যন্ত্রে
মনের মানব করলো মন্ত্র প্রয়োগ,
এক মন্ত্রে মাটির দেহে
অস্থিত্ব প্রানের বিয়োগ।
আগে যদি জানতাম প্রানের সখী
করবি তুই ছলনা,
বন্ধী করে পাখীর খাঁচায়
রাখতাম প্রেমের বাসনা।

বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০১৪

শেষ প্রহর

রাতের শেষ প্রহর
জেগেছে বাসনাময় ক্ষুদা,
গভীর নিশিতে শেষ প্রহরে
উত্তেজিত পীড়া।
নগ্ন চাঁদের আদরে আমি 
ভোগের ভোক্তভুগি,
শীতল স্থানে উষ্ণ ছোঁয়া 
কী করে বল রাখি?
দেহের খোলস সাপের মত 
বদলে যাক এক নিমিষে,
হবে খেলা দুটি দেহে 
রাত্রির প্রায় শেষেতে।
বন্ধ প্রসাদের বন্ধী জীবন 
পুষ্প বিছানায় রাখা,
প্রেম হবে ভালবাসাতে 
অন্য স্বাদে মাখা।
শেষ প্রহরে আমি-তুমি
আর কেউ নয় কাছে,
ঘন নিশ্বাসে গরম অনুভূতি 
শরীরের প্রতিটি ভাঁজে।
স্পন্দন বুকে
অট্টালিকার বহুতলা ভবনে,
কত যে আমি করেছি মিলন  
শেষ প্রহরে স্বীয় স্বপনে।

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪

অদ্ভূত ছেলের অদ্ভূত কাহিনী

অদ্ভূত শহরের ছেলে বড্ড অদ্ভূত,
কুয়াশাঘেরা প্রবল প্লাবনে হত উদ্ভূত।
রাতের নীল জোঁছনাতে করত চলাচল,
এভারেষ্টের চূঁড়াতে রাখতো নিজের দখল।
পৃথিবী হয়ে ঘুড়ে-বেড়াত আপন নিজ অক্ষে,
গ্রহ-নক্ষত এসে দাঁড়াতো স্বয়ং তার কক্ষে।
তীর চুঁড়ে নিশান দেখাতো ভূবনের চিত্রে,
শর্ত কিছু মেলাতো ডানা তার-ই কেবল ক্ষেত্রে।
তার বেলায় ছিল না মূল্য শক্ত-নরম স্তরে,
তবু কেন আঁধারবেলা আসতো পক্ষান্তরে।
হীরক পরিচয়ের দামী পাথরে সৃষ্ট বাহ্যিকতা,
জায়গা করার ছিল না বনে আদ্য প্রয়োজনীয়তা।
স্থীর দেহের অস্থীর মনে আলাদা সকল খন্ড,
ক্ষত-বিক্ষত অঙ্গ আঘাতে অযথা লন্ডভন্ড।
ভাঙ্গা কিন্তু মন প্রায় ভীষণ তার শক্ত,
ভেসে আসে ভেলায় ঘ্রাণ প্রাণেতে অতিরিক্ত।
সভ্যতার বিকাশ হল সাথে সে হল সভ্য,
নিশিতে করত খেলা সামগ্রী চন্দ্র নারীর দ্রব্য।
হাজারো কালোর ভেতরে অন্ধকার প্রিয় প্রছন্দ,
মিলনের ডাকে হত কেবল কবিতা হয়ে ছন্ধ।

হাবিজাবি কিছু কষ্ট

না বলা কিছু কষ্টকে আজ
লিখে রেখেছি গাছের পাতায়,
অশ্রু হয়ে ঝরছে শিশির
চোখের কালো গোলক খাঁচায়।
আবেগ নামক দুষ্টু বিড়াল
ঝগরা করে শুধু,
বিবেকের ঐ ডালিম গাছে
নেমেছে অন্ধকার মৃদু।
অন্ধকারে বাতি জ্বলে
আশার প্রদীপ নিভু হয়ে,
কেউ বুঝে না আমার বুকে
ফুল ফুটেছে কষ্ট নিয়ে।
ফুলের নাম রেখেছি পদ্ম
পদ্মানদীতে নৌঙ্গর খাঁড়া,
তার-ই বেদনায় কষ্টেরা যত
হয়ে রয়েছে পাগলপারা।
পাগলা দিনে বিকেল বেলা 
বেড়াতে আসে ক্লান্ত কাক,
ভাঙ্গা মনে কষ্টের পদ্ম
মেঘের সাথে দেয় যে ডাক।
সেই ডাকে অবুঝ আমি
খুঁজি তোমার চিঠির খাম,
গাছের পাতায় লিখে রেখেছি
কষ্ট মাখা সরঞ্জাম।

আমার পথে আমি: ৩

অনন্তকাল ধরে বহমান নদীর মধ্যবর্তী হেঁটে চলছি আমি,
বন্ধুর সমতুল্য নদীর প্রতিটি স্রোতে উঁচু-নিচু বেলাভূমি।
জোয়ার-ভাটার টানে পিছু ডাকে আমায় আমার কর্ম,
আমি তাকে দেই না সাড়া, আমার বুকে শক্ত-কঠিন চর্ম।
আমি এখন অনন্তকাল ধরে বহমান নদীতে অসামান্য পথিক,
আমার কাছে আমার যাত্রাপথ সর্বশ্রেষ্ঠ অধিক।
ডানে-বামে কে আছে, কে চায়, দেখার সময় নেই,
আমি আছি আমাতে মেতে, যুগ-যুগান্তর ধরে তাতেই হানা দেই।
পিছু ডাকে কত-শত প্রিয় সাথি, প্রিয় বন্ধু,
সময় নেই, কেন দেবো সাড়া 
উদ্দেশ্য পাড়ি জমাবো বৃহৎ বিষাদ-সিন্ধু।
ওরে আমার প্রিয় মানুষের ভিড়ে অপ্রিয় মানুষের দল,
তোদের প্রেমের অভিনয়ে আমি বুঝি শ্রেয় লবনাক্ত জল।
সমুদ্র জল আর আঁখি জল দুটোই এখন সমান, পার্থক্যহীন তরল,
তোদের কাছে আমিও তেমন স্বর্ন অপেক্ষা নগন্য পিতল।
জানি আমি ছাড়া তোরা আছিস সুখে তোদের মত শুষ্ক জলাশয়ে,
তার চেয়ে ভালো অনন্তকালের বহমান নদী
যেখানে হেঁটে চলছি আমি যুগের পর যুগ নিজের সাথে নিজের হয়ে।

মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৪

একটু প্রেমের একটি চারা গাছ

মেয়েটির বাঁকা ঠোঁটের একটু হাসিতে
ছেলেটির বুকে জেগে ছিল একটু আকর্ষণ,
আকর্ষণ থেকে ভালো লাগা,
ভালো লাগা থেকে একটু প্রেম।
ছেলেটি তার বুকে 
সেই একটু প্রেমের একটি বীজ বপন করেছিল,
মেয়েটির মনেও ছিল ছেলেটির প্রতি একটু আকর্ষণ।
আকর্ষণ থেকে ভালো লাগা,
যার ফলস্বরূপ একটু প্রেমের বীজ হতে 
বেড়িয়ে আসলো পূর্ণ প্রেমের চারা গাছ,
চারা গাছকে তারা দুজনে অনেক আদর করতো, যত্ন নিত,
প্রেমের চারা গাছ ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলো।
একদিন একটু ঝড় আসলো,
প্রেমের চারা গাছের সব পাতা ঝরে পড়লো
কঁচি সবুজ প্রেমের ডাল পালা সব ভেঙ্গে গেল।
ঝড় শেষে দেখা গেল, প্রেমের চারা গাছ আর দাঁড়িয়ে নেই
মাটিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে।
ছেলে আর মেয়েটির তখন কিছুই করার ছিল না,
তারা নিজেরাই এই ঝড়কে ডেকেছিল
একটু প্রেমের চারা গাছ ঝড় সহ্য করতে পারেনি,
তাকে মৃত্যুর সাগরে সাঁতরাতে হল।
আসলে প্রেম এমোনি, 
একটুতেই তাকে প্রাণ বলি দিতে হয়।