শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০১৪

প্রেত্নী


গ্রামের ঐ তেতুল গাছে
বাস করে এক পেত্নী,
সে নাকি মামতো ভূতের
সবচেয়ে ছোট্ট নাতনি.

প্রেত্নীর ভয়ে কেউ যায় না
তেতুল গাছের কাছে,
সবাই জানে ঐ খানেতে
প্রেত্নী নাকি নাচে.

দুষ্টু প্রেত্নী মাঝরাতে 
হটাৎ উঠে জেগে,
মানুষ ধরে রক্ত খায়
যখন যায় রেগে.

দুষ্টু প্রেত্নী ভীষণ রাগি
রক্তে রাঙ্গা চোখ,
ভয়ে অস্থীর গ্রামের মানুষ
শান্তি প্রিয় লোক.

ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধ
ভয় পায় সবাই,
সাহস বলতে এই গ্রামে
কারো বুকে নাই.

আসলে ঐ গাছে
কোন প্রেত্নী থাকেনা
কুসংষ্কারে আচ্ছন্ন,
ঐ গ্রামের ঠিকানা. 


একটি কবিতার আত্মকাহিনী


আমি একটি কবিতা,
আমার জন্ম কোন এক কবির হাতে
সে তার অনুভূতি শব্দে প্রকাশ করেছিল বলেই আমার জন্ম। 
সে আমাকে লিখে রেখেছিল রাস্তার পাশে প্রাচীনতম দেয়ালে,
আমি তাই ছিলাম রাস্তায় পথিকদের সঙ্গী। 
আমার পাশ দিয়ে যেত কতই না পথিক,
রাস্তার পাশে আমার উপস্থিতি ছিল অকল্পনীয়
আমি ছিলাম তাই পথিকদের জন্য আকর্ষণীয় অধিক। 
আমি বসে, কখনো বা দাঁড়িয়ে দেখতাম পথিকদের
তারা বহুরূপি পথিক, একেক জন একেক রকম,
ছেলে-মেয়ে, বৃদ্ধ, যুবক এবং যুবতি
বয়স কারো বেশি, করো আবার কম। 
সকল বয়সের বয়সী মানুষ
যেত আমার পাশ দিয়ে
যাবার সময় পড়ত আমাকে
পড়া শেষে করত নানা মন্তব্য, 
অতঃপর চলে যায় তারা
যেখানে তাদের গন্তব্য। 
কেউ আজও জানতে চাইলো না আমি আসলে কী?
তাদের কাছে আমি শুধুই কবিতা বলে পরিচিত। 
না, আমি শুধু কবিতা নই
আমার পিছনে লুকিয়ে রয়েছে গল্প,
সেই গল্প হতে আমার জন্ম। 
সে গল্পের উপর ভিত্তি করে 
লিখে রেখেছে আমায় কোন এক কবি,
হতে পারে সে কাজী নজরুল
অথবা ভানুসিংহ রবি।

খোলা জানালা

এ কেমন খোলা জানালা হৃদয় নামক দেয়ালে,
এ কেমন খোলা জানালা প্রতিটি মানবের আড়ালে।
যেখানে বন্দী আমি, বন্দী তুমি, বন্দী সকল সুখ,
একাকীত্ব চাঁদ হয়ে আসে, হৃদয়ে বেদনাময় নিয়ে রোগ।
চাঁদের আলো রক্তের মতন লাল,
খোলা জানালা রক্তের রঙ্গে আলোকিত। 
সে আলোয় ছায়া মানব আমি, ছায়া মানব তুমি
আর আমাদের মধ্যে খোলা জানালা
যে জানালার এক পাশ আমার, 
অন্য পাশ তোমার,
মধ্যখানে খোলা জানালা
যার মুক্ত দুটি দোয়ার।
মুক্ত ছিল বলেই স্বাধীন ছিল আমাদের প্রেম
পালিয়ে গেল খোলা জানালা হয়ে
সাধ্য নেই প্রতিহত করার।
যদি থাকতো তাহলে দু'পাশ খোলা রাখতাম না 
লাগিয়ে রাখতাম জানালাকে,
আর ভালবাসতাম একা
নিজের হয়ে নিজেই নিজেকে।

বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

লাশ

একদিন তর-তাজা এই শরীর
পরিণত হবে লাশে,
পচনের গন্ধ উড়ে বেড়াবে
প্রতিটি নিশ্বাসে।
সেইদিন পাশে কেউ বসবে না
রাখবে না হাতে হাত,
সেইদিন কেউ দিবে না শান্তনা
সারাতে গাঢ় আঘাত।
তখন কেউ ডাকবে না তোমায়
সুন্দরতম নামে,
গভীর ঘুমে ঘুমন্ত তুমি
চিরতম বিশ্রামে।
পরিচয় বলে থাকবে না কিছু
পরিচয় হবে লাশ,
স্থির হয়ে রবে শরীর
জীবনের হলে নাশ।
দার-দেনা, চাওয়া-পাওয়া
সবকিছুতে আসবে ইতি,
লাশ হয়ে থাকবে শুয়ে
পৃথিবীর বুকে তুমি হবে স্মৃতি।
ভাই কাঁদবে, বোন কাঁদবে
কাঁদবে প্রিয় মানুষ,
মরা দেহ অচল হবে
হারিয়ে তার হুশ।
আত্মা ও শরীর ছিন্ন হবে
ভিন্ন দুই জিনিশ,
কেউ তখন নেবে না তোমার খবর
তুমি শুধু বলবে মাঝেমধ্যে
কবরে এসে খবর নিশ।

মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কবি ও কবিতা

কবি নই আমি,
তবুও কবিতা লিখতে বসেছি,
কিছু কথা কবিতায় সাজিয়েছি।

সাজসজ্জা নিয়ে  কতই ছন্দের খেলা,
মনের উঠানে বসেছে কথার মেলা।

কিছু খেলা, কিছু মেলা,
এই নিয়ে কাঁটে বেলা।

ফের চাই পিছু,
কান পেতে থাকি
যদি বল কথা কিছু।

কিন্তু সে বাক্যহারা
বোবা সে বাক্য হারিয়ে,
নীল আকাশে মেঘ তাড়িয়ে।

শুরুতে অথবা শেষে,
মেঘ গেল ভেসে।
মেঘের সাথে আমিও ভেসেছি,
কবি নই তবুও কবিতা লিখেছি।

কবিতার ছন্দে, কবিতার বন্ধনে
আমিও এক ধরনের কবি
কবিতা লিখি মনের সুখে,
শুনবো বলে কিছু কথা
প্রিয় কারো মুখে।

কে সে, কে-ই বা সে?
যার জন্য এই কবিতা
সে কী জানে আমি কবিতা লিখি,
মুক্ত হস্তে আমি স্বাধীন কবিতার পাখি।

আমার আকাশ, আমার বাতাস,
নিরাশায় আমি হতাশ।
কেউ বলেনা কথা আমার কবিতা নিয়ে,
সবাই ব্যস্ত আমার মন্দ চেয়ে।

জানি আমি খারাপ
ভাল কেউ নই,
আমি জানি না শুধু অভিনয়,
কী করে ভাল সাজতে হয়।

আমি শুধু জানি লিখতে কবিতা
কবিতা নিয়ে পূর্ণ এই আমি,
যদিও তা মূল্যহীন কিছু কথা।
কিন্তু আমি কবি, আমি জানি,
কবিতার মূল্য হবে কত খানি।

শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

অনুভূতি ৪


আমি সেই দিন দেখেছি মায়াভরা রাতে
এসেছিলে তুমি কালো অন্ধকারে।
দেখেছি তখন একা নও তুমি,
তোমার সাথে অন্য এক যুবক।
তার হাতে ছিল তোমার হাত
দেখে মনে হচ্ছিল তোমরা প্রেমিক যুগল,
আর আমি ছিলাম খানিকটা কিছু দূরে
নিরব ছিলাম, শান্ত ছিলাম।
আমার ভানবাগুলো প্রশ্নতে রূপান্তর,
কেন তুমি অন্যের বুকে হলে দেশান্তর।
আমি কি অপরাধী ছিলাম, না আমি তো তা নই,
কিন্তু কেন আমার এই বুকে প্রেম নামে তোমার পরিচয়?
এখনো বুকের গহীনে কোন এক অঞ্চলে তোমার নামে আগুন জ্বলে
সেই খানেতে তোমার আগুন কে বল নিভাবে?
চোখের তলায় আগুনের তাপে পড়েছে কালো চাপ
কেউ বুঝে না আমার এই বুক তোমার নামে করে হাহাকার,
তোমার দু'চরনে আমার অশ্রু জানি নিষ্কৃট উপহার।
তবে এই উপহার অনেক রাতের জমানো অশ্রু দিয়ে কেনা,
সেই সব রাতে আমি ছিলাম ঘুমহীন হিমালয়ের সাদা তুষারকণা।
এখনো আমি রাত জাগা পাখি, ব্যবধান শুধু একটাই, 
আগে তুমি ছিলে তাই জাগতাম রাত
আর এখন তুমি নেই তাই নিদ্রাহীনতায় জাগে প্রতিটি আমার রাত।

তিনটি দ্বীপ

এক দ্বীপে আমি থাকি, অন্য দ্বীপে তুমি,
মধ্যখানে আরেক দ্বীপে স্বর্গ বাস ভূমি।
তিন দ্বীপে চলাচল নীল ঢেউয়ের খেলা,
মাঝ দ্বীপে কেউ থাকেনা, শুধুই অবহেলা।
তোমার দ্বীপে তুমি একা, আমার দ্বীপে আমি একা,
মাঝ দ্বীপে স্বর্গ বাস ভূমি নিঃশব্দে মাখা।
দূরত্ব হতে আরো দূরত্ব দুই দ্বীপের মাঝে,
নীল ঢেউয়ে স্বপ্ন আমাদের তৃতীয় দ্বীপে সাজে।
তৃতীয় দ্বীপ স্বর্গ বাস ভূমি, স্বপ্ন দেয় হাতছানি,
কী করে বল সেখানে আমাদের বাস্তবতাকে আনি।
অনেক কঠিন, ভাল লাগেনা, তুই থাক তোর দ্বীপে,
আমি থাকবো আমার দ্বীপে নিত্য-নতুন চাপে।
মাঝ দ্বীপে থাবকে স্বপ্ন, একা হয়ে ভীষণ,
শুনবে সে নীল সাগরে নীল ঢেউয়ের ভাষণ।