রবিবার, ২৯ জুন, ২০১৪

গল্প "পরিনাম"

হটাৎ করেই বেজে উঠলো রিয়াদের ফোন। ফোন ধরার সাথে সাথে রিয়াদ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। কিছুক্ষণ পর রিয়াদের এক বন্ধু এসে তাকে নিয়ে গেল ঋতুদের বাসায়। সেখানে সাদা কাপড়ে মুখঢাকা ঋতুর মরদেহ। ঘন্টা খানিক আগে ঋতুর মরদেহ সিংগাপুর থেকে এসেছে। সিংগাপুরের ডাক্তাররা ঋতুকে ব্রেইন টিউমারের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। ঋতু রিয়াদকে কথা দিয়েছিল সিংগাপুর থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসেই তারা বিয়ের কাজ সেরে ফেলবে। তাদের দুজনার স্বপ্ন ছিল তাদের প্রেম সাংসারিক রূপে রূপান্তরিত হোক। কিন্তু ভাগ্যে নির্মম পরিহাস। স্বপ্ন ঝরে পরলো গাছের শুকনো পাতা হয়ে। 

এখন জানায়ার নামাজ শেষে ঋতুর করব দেয়া শেষ। একে একে ঋতুর সকল আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবীরা সবাই চলে গেল। শুধু জড় পদার্থের মতন স্থির হয়ে রিয়াদ দাঁড়িয়ে রইলো ঋতুর কবরের পাশে। তার চোখের অশ্রু শুকিয়ে গেছে। অশ্রু উৎপন্ন করার ক্ষমতা চোখ হতে বিনাশ হয়ে গেছে। একসময় রিয়াদ প্রশ্ন তুললো সকল সৃষ্টির স্রষ্টার কাছে। বিদাতা আমি তো তোমার কাছে তেমন কিছু চাই নি। শুধু চেয়েছি একটি প্রেম। শুধু চেয়েছি সাজানো একটি সংসার। চেয়েছি ঋতুর সঙ্গ। কিন্তু তুমি বিদাতা কেড়ে নিলে আমাদের দুজনের দেখা এক-ই স্বপ্ন। ক্ষুধার্ত মৃত্যুকে তুমি পাঠিয়ে দিলে। মৃত্যু একসাথে আমরা দুজনকে খেয়ে নিলো। 

বিদাতা সে না হয় কবরে মাটির ভেতর ঘুমিয়ে থাকবে চিরকাল চিরনিদ্রায়। কিন্তু এই আমি কি করে কি দিয়ে কাটাবো আমার প্রাণের বাকীটুকু সময়।। আমি যে আজ আমার প্রেমের মৃত্যুতে পরিণত হলাম জিন্দা লাশে। যে লাশ দেখবেনা আর কখনো রংগিন স্বপ্ন। খোঁজবেনা নতুন করে এই জীবনের মানে। বিদাতা আজ থেকে আমি তোমার বিপরীত। তোমার সৃষ্টির বিপরীত। বিদায় জানাই বিদাতা তোমাকে আমার মনের মসজিদ হতে। যেখানে তুমি জন্ম দিয়েছিলে প্রেম, সেখানে আমি জন্ম দিলাম তোমার প্রতি ঘৃণা। 

এইভাবে কেটে গেল দু'বছর। রিয়াদ ইংলেন্ড যাবার ভিসা পেয়েছে। আগামীকাল সকালে রিয়াদের ফ্লাইট। সে তার রুমে বসে ব্যাগ গুছাচ্ছে। এমন সময় একটি মেয়ে কন্ঠ রিয়াদের নাম ধরে ডাক দিল। রিয়াদ, এই রিয়াদ, শুনতে পারছো তুমি, বাহিরে একটু আসবে, অনেক কথা বলার ছিল তোমাকে।

 রিয়াদ জানালা দিয়ে চেয়ে দেখলো রাস্তায় একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটির কণ্ঠ তার কিছুটা পরিচিত মনে হচ্ছে। রিয়াদ তড়িঘড়ি করে ঘরের বাহিরে গেল। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি ধপধপে ফর্সা মেয়ে। মেয়েটির পরনে সাদা সেলুয়ার কামিজ। বুকেতে লাল ওরনা। মেয়েটি যেন বিদাতার নিজ হাতে সৃষ্টি করা ডানাহীন অপ্সরী। 

রিয়াদ তুমি আমাকে চিনতে পারলেনা। আমি তোমার প্রেম। তোমার ঋতু। যাকে তুমি আজো তোমার বুকেতে বেধে রেখেছো প্রেমের বন্ধনে। রিয়াদ জড়িয়ে ধরলো ঋতুকে। চুমু খেতে লাগলো ঋতুর ঠোঁটে মুখে। ঋতু তুমি জীবিত। কোথায় ছিলে লুকিয়ে এত দিন? ঋতু উত্তর দিল, কে বলেছে আমি জীবিত। আমি জীবিত নই রিয়াদ। আমি এখন মৃত। তুমি নিজের হাতেই আমাকে করব দিয়েছো তোমার মনের মসজিদ হতে বিদাতাকে তাড়িয়ে দিয়ে। কীভাবে বিদাতার কাছে তুমি প্রশ্ন করলে রিয়াদ, কীভাবে তোমার হল এত দুঃসাহস? যে বিদাতাকে তুমি আজ ঘৃণ্য চোখে দেখো সেই বিদাতার হাতে সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের প্রেম। তার-ই হাতে সৃষ্টি হয়েছি আমি, সৃষ্টি হয়েছো তুমি। সৃষ্টি হয়েছে সমস্ত প্রাণীকুল। পরিনামে তিনি রেখেছেন মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু তুমি ভুলে গিয়েছো স্রষ্টার এই বাণী।

রিয়াদ মৃত্যু হয় মানুষের, প্রেমের কখনো মৃত্যু হয় না । আমি হয়ত তোমার মধ্যেই জীবিত রইতাম। কিন্তু রিয়াদ তা আর সম্ভব না। বিদাতা আমাকে পাঠিয়েছেন তোমাকে নিয়ে যাবার জন্য। রিয়াদ চলে এসো আমার সাথে। চল সেই সদূর পথ ধরে। বিদাতা তোমার অপেক্ষায় আছেন। তিনি চান তোমার দেহ হতে প্রাণ ছিন্ন হয়ে যাক। তিনি চান তোমার ধ্বংস। তুমি আজ কাফির, নাস্তিক। তুমি আজ ধর্ম-কর্মহীন মানব।

রিয়াদ নিরবে ঋতুর কথা শুনেই যাচ্ছে। তার কিছুই করার নেই তখন। তার হাতে লাগানো বাস্তব-অবাস্তের অদৃশ্য হাতকড়ি। সে পরিষ্কারভাবে বুঝতে সক্ষম এই ঋতু পূর্বের ঋতু নয়। এই ঋতু বিদাতা কর্তৃক প্রদত্ত একজন দূত সেজে আসেছে, তার প্রাণের পাখীকে শারিরীক কাঠামোতে তৈরি খাঁচা হতে মুক্তি দেওয়ার জন্যে। তার মৃত্যু এখন তার কাছেই। তীব্র বাতাসের বেগে বিড়াট একটি ট্রাক এসে মাঝ রাস্তায় পিষে ফেললো রিয়াদকে। চারিদিকে রিয়াদের রক্ত ছড়িয়ে পরলো। ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল রিয়াদের দেহ। যে দেহতে জীবিত থাকার সকল উপাদান-ই ছিল, কিন্তু ছিল না বিদাতার প্রতি আত্মসমর্পণ। 

(সমাপ্ত)

অভিলাষের বৃষ্টি

অভিলাষের বৃষ্টি এলে ধরণীর দুয়ারে,
ভালবেসে ওই বুক পেতে নিও সখি আমারে।
আমি প্রিয় যাপন করি অন্য কাননের ফুলে,
বৃষ্টি এলে শোভন স্বস্তির কথা বলে।
আমি কঠোর হই না রূষ্ট স্বনে তখন,
যখন অভিলাষের বৃষ্টিতে শান্ত মন।
দিগন্তের চারিধার আসে কালো ছায়া হয়ে, 
কড়া সূর্য নেয় ছুটি মেঘের আদর নিয়ে।
আনন্দমেলায় পাক-পাখালির লুকোচুরি, 
অভিলাষে সূরজুড়ে বিরাজমান অপ্সরী। 
যেখানে যার দেখায় বর্ষা কন্ঠে মাখা,
শত কাব্যে কবি লেখে পদ্য অশ্রুরোধে লিখা।
টাপুরটুপুর ধ্বনিতে ধ্বনিত নূপুর,
অস্থির প্রাণের অভিলাষ চুরি করে চোর।
তার খোঁজে বৃষ্টির দিনে মনমরা ঐ প্রাণ,
অভিলাষে অভিলাষী আমি গাই না কোন গান।

আমি ও আমার দু'খন্ড মন

আমার মনের গহীনে মাঝ বরাবর দুই খন্ড,
এক অংশে সাধু অন্য অংশে বসত করে ভন্ড।
এক অংশে হিংসায় জ্বলে প্রতিশোধের আগুন,
অন্য অংশ গান গেয়ে বেড়ায় প্রেমের তৈরি কানুন।
দুই অংশের মধ্যখানে বিপদগ্রস্ত এই আমি,
অংশ দুটো জোড়া লাগানোর কঠিন চেষ্টায় নামি।
কিন্তু মন আমায় প্রশ্ন করে কঠোর কথা কয়,
অভাগা আমি কেমনে বলি নিজেই নিজের পরিচয়। 
ইচ্ছে যখন হয় খুব খেপে হাতিয়ার ধরি হাতে,
উত্তর যে পাই না তখন সজ্জিত খুনির জাতে।
আমার মনের ভন্ড অংশ রক্ত পিয়াসী খুনি,
সাধু মন সুখের সন্ধানে বলে শান্তি প্রিয় বাণী।
দু'খন্ড মনের সাথে আমার হয় না কেনো সন্ধী, 
মধ্যস্থানে আহত আমি নিহতদের সাথে বন্দী। 
অনধীনতার দাবিতে দুই খন্ডে চলিত লড়াই,
মনের গহীন দুই খন্ডে খন্ডিত হয়েছে তাই।
পারি না আমি কোনো খন্ডে দিতে নিজের সমর্থন,
এক অংশ মনুষ্যত্বের সাথে চলিত দামি ধন।
অন্য অংশ পশুত্বের বলে আমি হলাম দানব,
আমি বলি আমি মন ভাঙ্গা শুধুই ক্ষুদ্র মানব।

(কবিতায় প্রতিটি চরণে ব্যবহৃত বর্ণের সংখ্যা ও সর্বমোট চরণের সংখ্যা সমান। প্রতিটি চরণে ২০টি বর্ণ ও কবিতায় মোট চরণের সংখ্যা ২০টি।)

সদৃশতায় অসদৃশ

আমি তোমার মত নই, কিন্তু ঠিক তোমারি মতন
দুই হাত, দুই চোখ, দুই পা
এগুলো না হয় সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
তারচেয়ে বরং বেশি মিল দুই প্রাণের একাত্বতায়,
দুই দেহে প্রবাহিত একই প্রাণের ভিন্ন রঙ্গে
একইন স্বাদের ভালবাসার ভিন্ন আলপনায়।

ঠিক তোমারি মতন আমিও ভালবেসেছি
ঠিক তোমারি মতন সমপরিমাণে।
আমি বেসেছি তোমার মনের সূক্ষ্ম অনুভূতিকে 
বৃহৎ আকারে ঠিক তোমারি মতন,
তুমি বেসেছো অন্য ভুবনের অন্য স্বপ্নপুরুষকে
জন্ম দিয়েছো পার্থক্য দুই দেহে, দুই মানবের শরীরে।

আমি ভেবেছিলাম পার্থক্যশূন্য আমরা একই প্রাণ,
কিন্তু তুমি দেখিয়ে দিলে চোখে আঙ্গুল দিয়ে
ভেদ-ভেদাভেদের চুক্তিতে ভেদ করে অসদৃশ।
আমি ভেবেছিলাম তোমার সব প্রেম-প্রীতি,
সবই ছিল আমারি প্রতি।

এই ভেবে নিজের ভাবনায় প্রসব করেছি 
একের পর এক পদ্য,
জীবনের গদ্য কাহিণীতে পানি ঢেলে
মুছলে তুমি আমার কল্পনায় রাঙ্গানো আলপনা।
শিখিয়ে দিলে সাধারণ বৈশিষ্ট্য ব্যতীত
অভ্যন্তরীণ গোপন অসমতুল্য গুণাগুণ।

তোমার প্রেমে স্বশিক্ষিত আমি এখন,
অহং প্রেমের অভিজ্ঞতা থেকে
জেনেছি, বুঝেছি, শিখেছি 
আমি তোমার মত নই, কিন্তু ঠিক তোমারি মতন।

শনিবার, ২৮ জুন, ২০১৪

যেভাবে হবে আমাদের বাসর

ভীতুর মতন জানি আমি প্রবেশ করবো
আমাদের প্রথম রাতের মিলন কক্ষে।

চারিদিক থাকবে সাজানো-গুছানো,
নরম বিছানায় থাকবে 
আমার প্রিয় ফুল গোলাপের পাপড়ি,
সাথে কিছু থাকবে রজনী গন্ধা
নরম বিছানার বক্ষে।

ফুলগুলো হয়ত রাতের সময়ে 
হারিয়ে ফেলবে মিষ্টি সুবাস,
তারপরও সুবাসহীন ফুলে 
ভাসবে আমাদের প্রথম মিলনের সুগন্ধ।

বিছানার মাঝখানেতে তুমি 
বসে রইবে গোমটা দিয়ে,
আমি ভীতু পরবোনা সহজে সরাতে 
লাল শাড়ীর গোমটার ছন্ধ।

যুদ্ধের উদ্দেশে্য রওয়ানা হওয়া যুদ্ধার মতন
আমি জমাবো ধীরে ধীরে সাহস,
ভয়কে সঙ্গে নিয়ে সরাবো তোমার গোমটা।

নয়নে আমার স্পর্শ পাবে মূখখানি তোমার,
কি তখন বলবো আমি, অজানা কোন কথাটা।

বোধহয় নিরবে নিচের দিকে দৃষ্টি দিয়ে
বসে রইবো অমি নিরব।

নিরবতা আমার বড্ড প্রিয়।
কিন্তু নিরব হলে চলবে না,
প্রেম নিবেদন করতেই হবে আমাকে।
প্রেমিকরূপে বলেতে হবে কথা সব।

পানজাবির পকেটে করে
আমি নিয়ে আসবো কিছু একটা উপহার 
তোমারি জন্যে, শুধু তোমারি কারণে।

সেটা হয়ত হবে মূল্যবান কোন বস্তু
হবে অথবা রক্ত লাল গোলাপ।
সাথে থাকবে একখানা কাগজ।

কাগজের চারটি ভাঁজ খোলার পর 
বেরিয়ে আসবে তোমাকে নিয়ে লেখা 
আমার কোন একটি কবিতা।

আমি হয়ে যাবো তখন রবি ঠাকুর 
কবিতার ভাষায় বলবো দু-একটি কবিতার চরণ।

হয়ত তুমি মুগ্ধ হবে যখন জানতে পারবে 
আমিও কবিতা লিখি, আমিও একজন কবি।

সেই রাতে কথা আমরা বলবোনা বেশিক্ষণ,
আমি সঙ্গে নিয়ে আসবো 
আরো কিছু ছোট ছোট কাগজ।

চিরকুটে সাজাবো লিখে লিখে 
প্রথম রাতে মনের কথাগুলো।

মুখের কণ্ঠধ্বনি পাবে ছুটি সেই রাতে
সেই রাতে আমার দুজন, 
মাঝখানে চিরকুট।

একসময় দুজনের চার চোখের প্রণয়ে আসবে ঘুম
তুমি না চাইলেও আমি বলবো তোমাকে ঘুমাতে,
নিজ হাতে পরিয়ে দেব ঘুমের মুকোট।

নতুন স্বপ্ন রচিত হবে 
দুজনার সুরেলা নতুন প্রেমে।

দুজন তখন দুদিকে মুখ করে 
একই ছাদের তলায় একই বিছানায় 
ঘুমাবো দুটি ভিন্ন ঘুমে।

তোমার ঘুমে তুমি সাজাবে
আমাকে নিয়ে সংসার সাজানোর স্বপ্ন।

আমার ঘুমে আমি আঁকাবো 
তোমায় নিয়ে জীবন গড়ার স্বপ্ন।

প্রিয় স্কুল জীবন

ফিরে যেতে ইচ্ছে হয়
পুরনো স্কুল জীবনে,
পড়ালেখার নামে দুষ্টামি 
কারণে-অকারণে।

ভোরবেলা স্যারের বাসায় 
পড়া শেষে স্কুলের পথে যাত্রা,
এসিমব্লিতে রং-তামাশা 
স্যারের কঠোর বার্তা। 

কার পায়ে কি জুতো
সাদা নাকি কালো,
শার্টের বুকে আইডি কার্ড 
কতই লাগতো ভালো।

প্রথম ক্লাসে রোল কল
এক-দুই-তিন,
কে পালিয়েছে হাফ পিরিয়ডে
ফাঁকি দিয়ে গত দিন।

শাস্তি তাকে পেতে হবে
জোরসে বেতের প্রহার,
হোম-ওয়ার্ক কে করেছে
অংক মিলেছে কার।

মিনিট পঁয়তাল্লিশ পরে যখন
উঠে বেজে ঘন্টা,
সময় শেষ প্রথম ক্লাসের
আনন্দে খুশি মনটা।

সুযোগ পেলে বারান্দায়
একটু মারো উঁকি,
পরের ক্লাসে পড়া ম্যাডামের
মিলে সবাই শিখি।

দ্বিতীয়-তৃতীয় ক্লাস শেষে
চতুর্থ ক্লাসের পালা,
টিফিন নিয়ে কাড়াকাড়ি
বড়-ই মধুর জ্বালা।

হাফ পিরিয়ডে পেলে সুযোগ 
কেউ পালায় কেটে,
কেউ আবার পাড়ি জমায় 
গ্লার্স স্কুলের গেটে।

বন্ধু নিয়ে অনেকেই
খেলাধূলায় ব্যস্ত,
আড্ডা-বিনোদনে সবাই সবার
গল্প-কথায় ন্যস্ত। 

ধীরে ধীরে ফিরে যায়
যে যার ক্লাসেতে,
দুষ্টামিতে মুখখানি
মেতে অট্টহাসিতে। 

পঞ্চম পিরিয়ডে তখন ক্লাস
হয়ে গেলে শুরু,
ক্লান্ত সবাই গোমরা মুখে 
সাজে নিরব তরু।

ষষ্ঠ-সপ্তম-অষ্টমের পর
আসে বিদায়ের ছুটি,
বাড়ির পথে বন্ধুর সাথে
অল্প হাটাহাটি। 

(মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে আমার স্কুল জীবনের আলোকে রচিত)

সোমবার, ২ জুন, ২০১৪

চার চোখের প্রণয়

আমাদের প্রণয়ের কথা বলি না আমরা মুখে,
প্রণয়ের কথা হয়ে যায় বলা অন্যভাবে চোখে।
ইশারায় ইশারায় চোখের বিসদৃশ ভাষায়,
কি হয় কথা গাঢ় ভালাবাসায়।
তৃতীয় কেউ জানে না, তৃতীয় কেউ বুঝে না,
যার বুঝার সেই বুঝে চার চোখের খেলোনা।
চোখে চোখে রেখে চোখ চুপ মুখে কর্ম,
অনুভবে শিহরিত দুটি হৃতের নর্ম।
গগনের দমে ফোটে সুচেতা,
প্রণয়ে বুকে চোখের-ই সহসা কথা।
প্রণয়ীর বোধে দেয় ধরা প্রণয়ীনীর শোভন,
চোখের বুলি পুষ্প কলি সব-ই কন্ঠরোধে রোপণ।
অনুল্লেখে লিখিত উদিত প্রেমের ঘ্রাণ,
নিঃশব্দতায় নির্বাক মুখে চোখে রচিত অনুরক্তির আহ্বান।