বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০১৪

আমি যা দেখেছি

আমি আমার অন্ধকার দেখেছি 
তোমার চোখের জলন্ত আগুনে,
আমি আমার নিরবতা দেখেছি 
তোমার কন্ঠের উচ্চ স্বরে,
আমি আমার কান্না দেখেছি 
তোমার হৃদয়ের চৌচিরতায়,
আমি আমার হাসি দেখেছি
তোমার বাঁকা ঠোটের কমলতায়,
আমি আমার সুখ দেখেছি 
তোমার কথার ফাঁকে,
আমি আমার কষ্ট দেখেছি 
তোমার স্মৃতি অংকিত বুকে.

শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০১৪

একাকীত্ব

একাকীত্ব আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু
আমি যেখানে যাই,
সেখানেই একাকীত্বকে খোঁজে পাই।
আমার সর্বস্তজুড়ে একাকীত্বের বস-বাস,
একাকীত্বের সাথে আমার রচিত 
প্রতিদিনের ইতিহাস।
চোখের পাতা খোলা থাকুক,
আর না-ই বা থাকুক
একাকীত্ব আমার সম্মুক।
রাত্রি হলে যেভাবে
নিলান্তর কালো হয়ে নামে অন্ধকার,
তেমনি আমার জগতে একাকীত্বের সমাহার।
এই ধারায় সময় চলে যায় 
একাকীত্বের হাতে,
একা চলে যায় আমার সময় 
একলা একটি হিমালয়ের পথে।
সে হিমালয়ের নাম একাকীত্ব
যাকে আদর করে আমি বন্ধু বলে ডাকি।


নতুন দিনের নতুন সূর্য

আকাশের বুক ছির করে
বেড়িয়ে আসলো অগ্নিময় উত্তাল সূর্য,
তার আলোয় আলোকিত 
পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণ,
রজনীর তিমির অন্ধকারকে তাড়িয়ে 
অর্জন করলো বীরত্ব খেতাপ,
তার তাপে পূর্ব আকাশে 
জাগলো আশার আলো
ধরণীর কুলকে কাঁপালো তাহার তাপ.
কোলাহলপূর্ণ শহরগুলো 
ব্যস্ত কর্মব্যস্ততায়,
সূর্যের আলো পরশ বুলালো 
পথে-প্রান্তরে এবং রাস্তায়.

অহংকার

সেই দিন রাতে আয়নার সামনে আমি দাঁড়ালাম,
কিন্তু আয়নায় আমি আমাকে দেখিনি
আমি দেখেছি অন্য এক মানুষ।
বড্ড বিশ্রি ছিল সে দেখতে
বিশ্রি ছিল তার গায়ের রং
বিশাল ছিল রক্ত চোষকের মতন দাঁত
মাথায় হিংস্র দুটি শিং
আগুনের ফোল্কার মতন চোখ
দেখতে লাগছিল অনেক ভয়ংকর।
কে সে? সে তো আমি নই
সে নয় আমার মতন,
সে নয় আমার প্রতিচ্ছবি।
ভয় জাগলো আমার মনে
কে ছিল সে?
ভয়ে ভয়ে তাকে জিগ্গেস করলাম
কী নাম তোমার, 
কী তোমার পরিচয়?
সে উত্তর দিল,
বলল, আমার নাম অহংকার,
আমি বাস করি তোমার মনে,
আর আমার পরিচয় তোমার চাল-চলনে।

প্রেত্নী


গ্রামের ঐ তেতুল গাছে
বাস করে এক পেত্নী,
সে নাকি মামতো ভূতের
সবচেয়ে ছোট্ট নাতনি.

প্রেত্নীর ভয়ে কেউ যায় না
তেতুল গাছের কাছে,
সবাই জানে ঐ খানেতে
প্রেত্নী নাকি নাচে.

দুষ্টু প্রেত্নী মাঝরাতে 
হটাৎ উঠে জেগে,
মানুষ ধরে রক্ত খায়
যখন যায় রেগে.

দুষ্টু প্রেত্নী ভীষণ রাগি
রক্তে রাঙ্গা চোখ,
ভয়ে অস্থীর গ্রামের মানুষ
শান্তি প্রিয় লোক.

ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধ
ভয় পায় সবাই,
সাহস বলতে এই গ্রামে
কারো বুকে নাই.

আসলে ঐ গাছে
কোন প্রেত্নী থাকেনা
কুসংষ্কারে আচ্ছন্ন,
ঐ গ্রামের ঠিকানা. 


একটি কবিতার আত্মকাহিনী


আমি একটি কবিতা,
আমার জন্ম কোন এক কবির হাতে
সে তার অনুভূতি শব্দে প্রকাশ করেছিল বলেই আমার জন্ম। 
সে আমাকে লিখে রেখেছিল রাস্তার পাশে প্রাচীনতম দেয়ালে,
আমি তাই ছিলাম রাস্তায় পথিকদের সঙ্গী। 
আমার পাশ দিয়ে যেত কতই না পথিক,
রাস্তার পাশে আমার উপস্থিতি ছিল অকল্পনীয়
আমি ছিলাম তাই পথিকদের জন্য আকর্ষণীয় অধিক। 
আমি বসে, কখনো বা দাঁড়িয়ে দেখতাম পথিকদের
তারা বহুরূপি পথিক, একেক জন একেক রকম,
ছেলে-মেয়ে, বৃদ্ধ, যুবক এবং যুবতি
বয়স কারো বেশি, করো আবার কম। 
সকল বয়সের বয়সী মানুষ
যেত আমার পাশ দিয়ে
যাবার সময় পড়ত আমাকে
পড়া শেষে করত নানা মন্তব্য, 
অতঃপর চলে যায় তারা
যেখানে তাদের গন্তব্য। 
কেউ আজও জানতে চাইলো না আমি আসলে কী?
তাদের কাছে আমি শুধুই কবিতা বলে পরিচিত। 
না, আমি শুধু কবিতা নই
আমার পিছনে লুকিয়ে রয়েছে গল্প,
সেই গল্প হতে আমার জন্ম। 
সে গল্পের উপর ভিত্তি করে 
লিখে রেখেছে আমায় কোন এক কবি,
হতে পারে সে কাজী নজরুল
অথবা ভানুসিংহ রবি।

খোলা জানালা

এ কেমন খোলা জানালা হৃদয় নামক দেয়ালে,
এ কেমন খোলা জানালা প্রতিটি মানবের আড়ালে।
যেখানে বন্দী আমি, বন্দী তুমি, বন্দী সকল সুখ,
একাকীত্ব চাঁদ হয়ে আসে, হৃদয়ে বেদনাময় নিয়ে রোগ।
চাঁদের আলো রক্তের মতন লাল,
খোলা জানালা রক্তের রঙ্গে আলোকিত। 
সে আলোয় ছায়া মানব আমি, ছায়া মানব তুমি
আর আমাদের মধ্যে খোলা জানালা
যে জানালার এক পাশ আমার, 
অন্য পাশ তোমার,
মধ্যখানে খোলা জানালা
যার মুক্ত দুটি দোয়ার।
মুক্ত ছিল বলেই স্বাধীন ছিল আমাদের প্রেম
পালিয়ে গেল খোলা জানালা হয়ে
সাধ্য নেই প্রতিহত করার।
যদি থাকতো তাহলে দু'পাশ খোলা রাখতাম না 
লাগিয়ে রাখতাম জানালাকে,
আর ভালবাসতাম একা
নিজের হয়ে নিজেই নিজেকে।