ধরণীর এই সুন্দর রূপ
নীল সাগরের ডেউ,
আকাশ পানে রয়েছে কে
জানো কী তোমারা কেউ ?
সর্বখানে কার হুকুম চলে
জানো কী মানবজাতি,
কার ইশারায় রাত্রি নামে
প্রভাতে না ফুরায় গতি ?
পাখীর কন্ঠে মধুর সুর
ভেসে আসে গান,
মাটির দেহে করেছে কে
প্রাণের অস্তিত্ব দান ?
গাছের ডালে ধরে ফল
জমিতে হয় ফসল,
মৃত্তিকায় ক্ষমতা কে দিয়েছে
নকল মুক্ত আসল ?
আশরাফুল মাখলুকাত হয়েছে সৃষ্টি
কার এই অবদান,
সৃষ্টা তোমার হবে না শেষ
সৃষ্টির গুণোগান ।।
শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৩
সৃষ্টার সৃষ্টি
বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৩
নদী
নদীতে স্রোত হয়ে এসেছিলে
চলে গেলে নদীর স্রোতে ভেসে,
হারিয়ে গেলে সাবলীলভাবে
একটু কাছে এসে।
কিছু কথা রেখে গেলে
ক্ষুদ্রাকার নদীর তীরে,
কথাগুলো আটক ভাঙ্গা পাঁড়ে
অজস্র বালুকণার ভিড়ে।
নদীর এক পাঁড় হতে অন্য পাঁড়ে
দূরত্বের নেই সীমা,
গভীর জলে নদীতে চাইলে
যায়না সহজে নামা।
নদীর গভীরতার গভীরে
পানি শুকিয়ে খরা,
হাটু জলে নদীর কূল
জানি না কী দিয়ে গড়া ?
নদীর মুখ বলে না কথা
বলেনা নদীর চোখ,
স্রোতের জলে গেলো ভেসে
নদীর সমান্তরাল বুক।
সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৩
চারদেয়ালের ভেতর ও তার বাহির
পরিবেশ এখন শান্ত,
বাহিরে বৃষ্টি ভেজা বাতাসের আসা যাওয়া,
চারিদিকে পরেছে নিরবতার নিরর আলোরন,
নেই এখন এক চুল পরিমাণ শব্দ,
আর এমন এই সময়ে আমি আটক চারদেয়ালের তৈরি শয়ন কক্ষে।
পরিবেশ প্রতিকূলতার ছায়া মুক্ত,
সূর্যের কড়া রোদ্দুর হয়েছে ক্লান্ত,
দিনের আলোর ঘটেছে অবসান,
নেই এখন পৃথিবীতে কর্ম ব্যস্ততার চিহ্ন,
আর এমন এই সময়ে আমি আটক চারদেয়ালের তৈরি শয়ন কক্ষে।
সময় এখন মধ্য রাত,
আমার প্রিয় মানুষেরা এখন গভীর ঘুমে,
উনারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিজেদের স্বপ্ন জগতে,
নেই এখন তাদের মধ্যে নিদ্রাহীনতা,
আর এমন এই সময়ে আমি আটক চারদেয়ালের তৈরি শয়ন কক্ষে।
আমার বিড়াল ছানাটিও এখন চুপটি মেরে ঘুমাচ্ছে,
মা বিড়ালটি চলে গেলে ছানাটিকে একা ফেলে,
সে আসবে ভোরবেলা তার ছানাটির সাথে দেখা করতে,
নেই এখন মা বিড়াল ও ছানাটির মধ্যে তেমন আদরের সম্পর্ক,
আর এমন এই সময়ে আমি আটক চারদেয়ালের তৈরি শয়ন কক্ষে।
পাহারাদার কুকুরগুলা পাহারা দিচ্ছে সমগ্র এলাকা,
কুকুরেরা পায়চারি করছে প্রতিটি বাড়ির সম্মুকে,
দলবদ্ধভাবে তারা করে যাচ্ছে তাদের কাজ,
নেই এখন তাদের মধ্যে ঝগড়া,
আর এমন এই সময়ে আমি আটক চারদেয়ালের তৈরি শয়ন কক্ষে।
ঘরের সামনের রাস্তা এখন নিরব,
রাস্তাগুলো মানুষের গন্ধ শূন্য,
সেখানে চলছে না কোনো যানবাহন,
নেই এখন বাতাসে সেসব যানবাহনের মিশ্রিত কালো ধোঁয়া,
আর এমন এই সময়ে আমি আটক চারদেয়ালের তৈরি শয়ন কক্ষে।
জানালা দিয়ে দেখলাম রাস্তার পাশে দোকানটি বন্ধ,
দোকানের প্রবেশ ফটকে ঝুলে রয়েছে বিশাল একটি তালা,
শুধু দোকানের সম্মুকে লাগানো রয়েছে আকর্ষণীয় যত পোস্টার,
নেই এখন সেসব পোস্টার দেখে সমালোচক খরিদ্দারের উপস্থিতি,
আর এমন এই সময়ে আমি আটক চারদেয়ালের তৈরি শয়ন কক্ষে।
জানালা দিয়ে দেখলাম আমি আরও অনেক কিছু,
দেখলাম রাতের অন্ধকারের রং কালো,
সে অন্ধকারকে আলোকিত করেছে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক বাতি,
নেই এখন শুধু সেই বৈদ্যুতিক বাতির খুঁটির নিচে দাঁড়ানো চানাচুরওয়ালাটি,
আর এমন এই সময়ে আমি আটক চারদেয়ালের তৈরি শয়ন কক্ষে।
অবশেষে ফিরে গেলাম আমার অগোছালো বিছানায়,
যার চারপাশে দন্ডায়মান রয়েছে চারটি দেয়াল,
এবং চারদেয়ালের এক কোণায় আমার অবস্থান,
নেই এখন শুধু আমার মধ্যে ঘুমের চাহিদা,
আর এমন এই সময়ে আমি আটক চারদেয়ালের তৈরি শয়ন কক্ষে।
শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৩
রাজনীতি
উন্মুক্ত আজ রাজনীতির মুক্ত ময়দান,
কাঁটা তারে অবরুদ্ধ এক রাজনৈতিক উদ্যান।
সে উদ্যানে কেউ জুয়াড়ি, কেউ খেলোয়াড়,
কেউবা অভিনয়ে অগ্রনেতার জোয়ার।
কেউ করছে সেইখানে নিজ স্বার্থে দুষ্টু রাজনীতি,
প্রশাসনের হস্তে লাগিয়েছে তালা আজব সেই নীতি।
কেউ আবার জনকল্যাণে প্রতিনিহিত ন্যস্ত,
মা-মাটির সেবায় তারা পূর্ণভাবে ব্যস্ত।
অন্যদিকে অসৎ ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহারে করে রক্তপাত,
গরীব মানুষেরা মাঠে মরে, সাহায্যের পায়না একটু খানি হাত।
হরতাল, বিক্ষোভ, ধর্মঘটে হচ্ছে তারা শিকার,
এই দেশেতে নেই যেন তাদের স্বীয় অধিকার।
তারা কী নয় নাগরিক স্বাধীন এই দেশে,
যেদেশেতে সজ্জিত রাজনীতি ভিন্ন দুটি বেসে।
শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৩
গল্প
গল্পের নেই শুরু, নেই শেষ
এবং গল্পটি অলিখিত,
গল্প চলছে তার নিজস্ব গতিতে
যেন গল্পটি জীবিত।
এই গল্পে নাট্যকার আমি
করে যাচ্ছি তাই অভিনয়,
কিন্তু আমি অসুখী এই গল্পের অংশ হয়ে
কারন গল্পটি শেষ হবার নয়।
গল্প চলছে, আমার অভিনয় চলছে
চলছেনা শুধু স্থিতিশীল ভুবন,
যেখানে গল্পের হয়েছিল প্রসার
সেখানে আজ সংলাপহীন জীবন।
জীবনটা তাই অচেতন
গল্পের নির্মম পরিহাসের শিকার,
কিন্তু এই গল্পের রচনা করেছি আমি
তাই জানাই নিজের উপর নিজে ধিক্কার।
বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৩
রাজকন্যা ও স্বপ্নকন্যা
আমার মন ঘরে রাজকন্যার স্থায়ী বসবাস,
কিন্তু রাজকন্যা আমার নয় বলে হয়নি প্রেমের নাশ ।
প্রেম আমার সীমাহীনের মধ্যে সীমিত,
রাজকন্যার সৃতি থাকবে অনন্তকাল জীবিত।
কিন্তু সে এখন অনেক দূর, ধরা-ছোঁয়ার বাহিরে,
তবুও যেন সে পেতেছে আসন শূন্য আমার ভেতরে।
জানি সে আমার নয়, কিন্তু আমি হয়েছি তার,
ভাবনার উঠানে ঘটেছে তাই তারই সমাহার।
অন্যদিকে জেগেছে আমার মনে স্বপ্নকন্যার দেখা,
সে থাকে স্বপ্নদেশে আর ব্যস্তবে আমি একা।
মনের ঘরে এখন অন্য কক্ষে স্বপ্নকন্যার স্থান,
কিন্তু রাজকন্যা আমার প্রথম প্রেমের প্রথম জয়গান।
মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৩
স্বপ্নকন্যা এবং আমি ৮ (স্বপ্নকন্যার পরিচয়)
তুমি মেঘলা আকাশে কালো মেঘ,
বৈশাখী ঝরে বয়ে আসা জোর বাতাসের বেগ।
তুমি চাঁদনি রাতে রহস্যময় অন্ধকার,
মায়াবী হাসিতে হাস্যকর তোমার বদ্ধ দুয়ার।
তুমি অরণ্যের মধ্যখানে বন্য সবুজ,
দিগন্তের শেষাংশে তুমি হলে নিখোঁজ।
তুমি কোকিলের কন্ঠে আনন্দের সুর,
গ্রীষ্মের কড়া রোদে তুমি রোদেলা দুপুর।
তুমি সাগরে বয়ে আসা সমুদ্রস্রোত,
অচিন দেশ হতে আগ্রত তুমি অচেনা এক দূত।
তুমি হিমালয় থেকে পতীত হওয়া নরম বরফের আস্তারন,
গোলাপের পাপড়িতে যেন তুমি কোমলতার বিবরণ।
তুমি সৌন্দর্যে সজ্জিত এক অপূর্ব সাজ,
নকশী কাঁথায় বুনে উঠা সুই সুতায় তুমি কারুকাজ।
তুমি প্রেমের বন্দরে নির্বাক প্রেমে ভাস্য পূর্বাভাস,
শীতলার শীতল শিহরনে তুমি অসমাপ্ত বিশাল সেই আকাশ।
তুমি নিশি কাটানো ফুল শয্যায় শয়ন সঙ্গ,
আগুনজরা রুপে আগলে রাখা প্রতিটি রুপসী তোমার অঙ্গ।
তুমি আলতো ছোঁয়াতে ভেসে উড়া বাতাসে সাদা কাশফুল,
কাজলকালো দীর্ঘ বেনীতে নারিকেল তেলে সুবাসিত তোমার আঁচড়ানো চুল।
তুমি স্বপ্নদেশে বসবাসকারী সুন্দরী যুবতি রুপসী এক কন্যা,
যেন তোমার যৌবনে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে আসা অফুরন্ত রূপের বন্যা।
তুমি সেই রুপের বন্যায় ভেসা আসা সবুজ ঘাসের কচি পাতায় বিরাজমান একফোঁটা শিশির বিন্দু,
জীবনের এই চলার পথে তুমি সর্বশেষ এবং সর্বস্ব স্থায়ী একমাত্র বন্ধু।
তুমি হলে সেই অর্ধাঙ্গিনী যার হাতের উপর থাকবে আমার হাত,
প্রেমের ভেলায় ভালবাসার খেলায় ব্যস্ত তুমি নিদ্রাহীন আমার অশান্ত রাত।
তুমি জাগ্রত অবস্থায় দর্শন করা প্রতিটি আমার স্বপ্ন,
ঘুমন্ত বুকে তোমার পায়ে নূপুরের ধ্বনি সর্বদা ধ্বনিত হয় ভিন্ন।
তুমি হলে শেষ গন্তব্যস্থান যেখানে আমার শেষ অশ্রয়,
চলনায় চলনশীল মায়াবী চোখে চলমান যত চঞ্চল তোমার প্রশ্রয়।
তুমি রাত্রির কালো আকাশে অসংখ্য তারোকার মধ্যমনি একখানা চাঁদ,
আদরে স্পর্শ করা পীট হতে তোমার কোমল মসৃণ মোলায়েম কাঁধ।
তুমি আমার বিনোদনের আয়োজন দৈনন্দিনের প্রয়োজন,
অগুছালো জীবনে তুমি একান্ত অপনজন।
তুমি পরাজিত হৃদয়ের একমাত্র বৈধ দাবিদার,
দেহে-মনে তোমার অগণিত অধিকার।
তুমি মেঘ না চাইতে নভস্থল হতে পড়ন্ত বৃষ্টি,
আলতোভাবে সঙঘৃষ্ট হওয়া নরম ঠোঁট তুলনাহীন মিষ্টি।
তুমি অফুরন্ত সুখে সুখময় জীবনের জীবন্ত প্রতিটি প্রহর,
দোলনার মত দোলন্ত তোমার তরবারি সদৃশ ধারালো ক্ষিপ্ত কোমর।
তুমি অতীতে হাজারো সময়জুড়ে ফেলে আসা আমার পুরনো যত ভাবনা,
রঙ্গিন রঙ্গে তুমি রাঙ্গায়িত আমার ভবিষ্যৎ আঙ্গিনা।
তুমি সৌন্দর্যে সজ্জিত বাগানে ফুটন্ত নিষ্পাপ পুষ্প হতে ভেসে আসা মনোরম সুগন্ধ,
সে সুগন্ধে সুবাসিনী তুমি প্রাণোবন্ত দিগন্তের সীমাহীন প্রবন্ধ।
তুমি পহেলা বৈশাখে বরণকরা উল্লাসিত বাংলা নববর্ষ ,
সহবাসে উদ্দীপ্ত হওয়া তোমার অগ্নিময় উত্তাল স্পর্শ।
তুমি শীতল ছায়া দানকারী ছায়াময় এক বৃক্ষ,
ভালবাসায় উতসর্গ তোমার স্পন্দিত হওয়া বক্ষ।
পরিশেষে তুমি এই কবিতা লিপিকারের অস্তিত্বহীন রাণী,
স্বপ্নদেশের কল্পনার আলোকে বর্ণিত এই কবিতার প্রতিটি লিখিত বানী।