এখনো অনেক রাত জাগা বাকী
হাজারো বছরের একটি রাত
অনেক পুরনো, কালো চাদরে মুড়নো।
যে রাতে আমি জেগে রইবো ঘুমন্ত গীরি-পর্বতে,
কেড়ে নেবে আমার ঘুম কোনো মানুষী সেই রাতে।
কেড়ে নেবে স্বপ্নগুলো,
বলবে, দয়িত প্রয়োজন নেই স্বপ্ন দেখার,
প্রতিটি স্বপ্ন হবে বাস্তব, বাস্তব হবে কল্পনা।
বাস্তব-অবাস্তব মিশে যাবে আলিঙ্গনে,
রইবো তখন জেগে আমি নিদ্রালু নয়নে নয়নে।
আমি রইবো জেগে,
জেগে জেগে দেখবো রাত।
আকাশের তারারা দল বেঁধে নৃত্য করবে,
তাদের প্রেমিকা চাঁদের চুম্বন পাওয়ায় আশায়।
সে রাতে আমি হব তারা
গোলাপি ঠোঁটের স্পর্শের আশায়।
জেগে রইবো অনন্তকাল
এইভাবে হাজারো বছরের একটি রাতে,
যে রাতে বলবে কেউ, গল্প শোনাও একটু।
সে রাতে আমি জেগে রইবো রূপকথার ভীড়ে,
পাতালপুরী থেকে প্রেম আনবো রাতের বক্ষ চিঁড়ে।
যে রাতে ধূসর স্মৃতি পালাবে, লুকাবে কালো চাদরের নিচে,
সে রাতে ঘুমের অভিনয় আমি করবোনা মিছে মিছে।
চোখের পাতায় থাকবেনা ঝুলে বর্ষাকাল,
যে রাতে আমি চাইবোনা বেড়াতে আসুক নতুন সকাল।
আমি রইবো জেগে সেই রাতে
কারো আঁচলে মুখ ঢেকে ধরে রাখবো সেই রাত,
যেই রাতে তুমি-আমি এক হব নির্ঘাত।
সেই রাতের অপেক্ষায় এখনো অনেক রাত জাগা বাকী,
সেই রাতের ছবি এখনো আমি না ঘুমিয়ে আঁকি।
রবিবার, ২০ জুলাই, ২০১৪
শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪
কবিতার পরিচয়
তুমিই প্রেম, তুমিই কবিতা,
তুমিই রমণী, আমি তার দেবতা।
তুমিই সব, বুকের কলরব,
সৃষ্টির সুখে উল্লাসী তুমি
অর্ধেক শুদ্ধ মানব।
বাকী অর্ধেক কল্পনা তুমি
তুমিই ভাবনা,
তুমিই ঠিক ততটুক
যতটা হীরে-মুক্ত-সোনা।
তুমিই সুখ, স্বপ্নের মুখ, তুমিই প্রথম সূর্য,
তুমিহীন জগত সংসার বৃথা, কদর্য।
তুমি সাহিত্য, সর্ব সত্য
তুমিই জাগ্রত সুপ্ত বুলি,
সুবাসিত তুমি ঠিক ততটুক
যতটা কুসুম কলি।
তুমিই রমণী, আমি তার দেবতা।
তুমিই সব, বুকের কলরব,
সৃষ্টির সুখে উল্লাসী তুমি
অর্ধেক শুদ্ধ মানব।
বাকী অর্ধেক কল্পনা তুমি
তুমিই ভাবনা,
তুমিই ঠিক ততটুক
যতটা হীরে-মুক্ত-সোনা।
তুমিই সুখ, স্বপ্নের মুখ, তুমিই প্রথম সূর্য,
তুমিহীন জগত সংসার বৃথা, কদর্য।
তুমি সাহিত্য, সর্ব সত্য
তুমিই জাগ্রত সুপ্ত বুলি,
সুবাসিত তুমি ঠিক ততটুক
যতটা কুসুম কলি।
ক্ষমা
তোমায় দেখিয়াছি শত জনমে শতবার,
তবু প্রাণ ভরে না, চাই দেখিতে বারি বার।
মনের ভাষায় বলিয়াছি প্রাণের সুধা,
তোমায় দেখিয়াছি বলে সারা জাহানের খোদা।
তুমি দেখাইয়াছো রং-রূপ, দিয়াছো পূর্ণ চাঁদের স্বাদ,
তোমার দয়ায় তুলিয়াছি পাপি দুই হাত।
করিয়া দিও ক্ষমা, পরিয়াছি পাপিষ্ট জামা,
ফিরাইয়া দিও না তোমার দরবারে ক্ষুদ্র আমলনামা।
শত-লক্ষ-কোটি হইতেও বেশি করিয়াছি কদর্য কর্ম,
শুনিয়াছি তুমি মহান প্রভু, ক্ষমা তোমার ধর্ম।
আজিকে চাই তোমার শীতল ছায়ায় নূ্যনতম দয়া,
করিয়া দিও ক্ষমা সব পাপিদের
যত পাপ করিয়াছি পুরান সহিত নয়া।
স্থান দিয়া দিও হাশরের ময়দানে
নবীর উম্মতের দলে,
ফিরাইয়া দিও না এই দুই হাত
তোমার নিকটে ক্ষমা চাইনি বলে।
তোমার মনের শহরে
তোমার মনের শহরে এক মুসাপীর আমি
হেঁটে বেড়াই তোমার অলি-গলি,
এক দুয়ার হতে অন্য দুয়ারে
একা একেলা চলি।
ফিকে রঙ্গের আঁধারে মেঘমালা
করে যায় ডাকাডাকি,
আমি মোর প্রিয়া হীনা শহরে
নিঃস্ব নয়নে তাকিয়ে থাকি।
পথের ধারে খোঁজি গো কারে
কেনোই বা বুঝোনা তুমি,
তোমার মনের শহরে আজি
কেন এসেছি গো আমি।
তুমি তো বুঝোনা, মানো না প্রেম
আমি যে চলি প্রেম নিয়ে মনে
মনে মনে কথা বলি,
তোমার আশায় চেয়ে থাকি আমি
আর আমার পথের ধূলি।
কোন পথে চলছো তুমি
তোমার বাহারি মতে,
তোমার শহরে তোমার খোঁজে
চাই গো তোমারি হতে।
তবু কেন কোথা পাই না দেখা
তোমার পায়ের ছাপ,
তুমি মোর প্রিয়া পুষ্প কেয়া
করে দিও মিথে মাফ।
অনুভূতি: ৬
স্মৃতির ডায়েরি হতে সেই নামটিকে আজ
ফেলে দিয়েছি ঘৃণার ডাষ্টবিনে।
মুছে দিয়েছি অশ্রু জলে
প্রয়ণের গন্ধ জীবনের মোলাট হতে।
খাতার পৃষ্ঠার মতন খন্ড খন্ড করে
শত ভাগ করেছি মিষ্টি কথা সব।
উড়িয়ে দিয়েছি সাজানো স্বপ্ন
যে কাল বৈশাখ এসেছিল মনের অঁচলে।
ইচ্ছে করেই হারিয়ে ফেলেছি
যা করেছিলাম সুন্দর ঘর বাননোর কামনায়।
কষ্টকে প্রেমিকা ভেবে কোলে নিয়ে
না পাওয়ার মুখচাপা অদৃশ্য ঘোষণা শুনেছি।
জ্বলন্ত অগ্নি শিখায় ঝাঁপ দিয়ে
সাঁতার কেঁটেছি যত ছিল কল্পনার সূর্য
সবগুলোকে ভেলা বানিয়ে ভাসাবো বলে।
নতুন স্বাদগুলোকে তিক্তায় ডুবিয়ে
তিমিরের কালোতে পুঁড়িয়েছি,
সাদা-কালো স্মৃতির ভান্ডার হতে
সেই নামটিকে উচ্ছেদ করার সাহস অর্জনার্থে
পশুতূল্য আচরণকে অস্থিত্ব প্রাণের ভেবেছি।
মানুষ হত্যা
আকাশ হয়েছে কালো
গোলা-বারুদে ধ্বংসের রূপে,
লাশের উপর লাশ শুয়েছে
বর্বরতার নিষ্টুর স্তুপে।
ধরণীর বুকে এ কেমন পাষাণ
যে চায় শুধু লাশ,
কেড়ে নিও না নিষ্পাপ প্রাণের
শান্ত অভিলাষ।
মানুষ হয়ে মানুষ হত্যা
কীভাবে করে পাপী,
সারা সৃষ্টি ঘৃণ্য চোখে
বলেছে অভিশাপী।
ইহুদী-মুসলিম বুঝি না আমি
আমি বুঝি সবাই মানব,
ধ্বংস নয় কাম্য ভুবনে
হয়ে যাক শান্ত সব।
নিষ্পাপ শিশুর নিষ্পাপ দেহ
চায় না কিছু, শুধু চায় আদর,
দানব রূপি মানব দিয়েছে মৃত্যূ
যেন হৃদয় শক্ত পাথর।
পাপীদের বলি কীভাবে তোমরা
হয়েছো এত নিষ্টুর,
মনুষ্যত্ব কী বুক হতে তোমাদের
হয়ে আছে বহুদূর।
একের পর এক লাশ পরেছে
অভাগা মাতার কুলে,
সারা সৃষ্টি প্রশ্ন করে
মনুষ্যত্ব রয়েছে বলে।
আর কত ঝরবে বল
ঝর্ণা হয়ে রক্ত,
পাষণ্ড তোদের পাষাণ হৃদয়
লৌহের মতন শক্ত।
একটু কি জাগে না মমতা
যখন দেখো লাশ,
বল তোমরা আর কত চাও
গড়তে সর্বনাশ।
ঘুমন্ত বুকে জাগাও প্রেম
একটু দেখাও দয়া,
চাই না আজ বেশি কিছু আর
যদি জাগ্রত হয় মায়া।
বন্ধ কর গোলা-বারুদ
থামাও যন্ত্র কামান,
নয় মৃত্যু, চাই না আর
বাঁচাও ছোট্ট প্রাণ।
বন্দুকের গুলি ঝরুক না
ঝরুক শান্তি হয়ে বৃষ্টি,
কথা দাও নিষ্ঠুর মানব
রক্ষা কর সৃষ্টি।
বন্ধ কর এই যুন্ধ
থামুক মানুষ হত্যা,
ভুলে যেওনা ইহলোকে
মানুষই প্রবিত্র সত্তা।
পাগলী তুই
কাছে আয় ছোঁয়ে দেখি কীকরে এত সুন্দর তুই,
ইচ্ছে হয় প্রথম দেখায় পরম সুখে তোকে ছুঁই।
টানা টানা দুটি চোখ
যেন হরিণীর কাছ থেকে ধার করে নেয়া,
পরমা সুন্দরী তোকে আলতো দিবো ছোঁয়া।
কালো রেশমি চুল যেন কাশফুলের বাগান,
মুখের মিষ্টি কথন নজরুলের গীতি-গান।
হাতের রাঙ্গা মেহেদী যেন নকশী কাঁথার মাঠ,
হৃদয় জুড়ে পাগলী তোর বুলি করেছি পাঠ।
আলতা পায়ে পাগলী তোর নুপূর,
কানে বাজে ঝুমূর ঝুমূর।
আরো ভালো লাগে যখন বৃষ্টিতে তুই ভিজিস,
গোঁধুলী লগণ হয়ে তখন নজর কেড়ে নিস।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)