বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৩

কবিতা আবৃত্তি

কৃতকর্মে অনুতপ্ত কবি
শুরু করেছেন কবিতা আবৃত্তি,
প্রতিটি কবিতায় পূর্ণজন্ম
প্রতিটি ছন্দের পূনরাবৃত্তি।
অচেতন ছিল কবিতাগুলো
এতদিন জড় পদার্থ,
কবিতা আবৃত্তিতে কবির
নেই মনে বিভ্রান্ত।
অবিরামভাবে কবি তাই
করে যাচ্ছেন কবিতা আবৃত্তি,
লেখা কবিতাগুলো কবিতার জগতে
কবিতা বলে পেলো স্বিকৃতি।
দাঁড়ি, কমা ও সেমি-কোলনের ব্যবহারে
কবিতা আবৃত্তি শ্রুতিমধুর,
শ্রীময় উচ্চারিত কবিতার ধ্বনি
যেমনটা শ্রীযুক্ত হয় মুখমণ্ডল নব বিবাহিত বধূর।

অভিশপ্ত ভালবাসা

অভিশপ্ত ভালবাসা
তীলে তীলে দিয়ে যাচ্ছে ব্যথা,
কেমন করে সইবো এর কষ্ট
হৃদয়ে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে গাঁথা।
ভালবাসার মানুষ সরিয়েছে তার হাত
ছিঁড়েছে আত্মার বাঁধন,
অভিশপ্ত ভালবাসা দিয়েছে গাঁয়ে
মৃৃত লাশের সাদা কাফন।
মৃত ভালবাসা মনেতে অচল
রুক্ষ ভালবাসার মুখ,
নিষ্পাপ ভালবাসা আর নেই বুকে
অভিশপ্ত তার সুখ।

সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৩

জ্যামিতিক কবিতা

সাদা কাগজের উঠানে
পেন্সিল দিয়ে ময়ূর পক্ষীর মতন নূত্য,
নূত্যের তালে পরেছে ছাপ
কম্পাসে আঁকা বিত্ত।
বিত্তের গোল কাঠামোর ভেতর
বিন্দু একাকীত্ব,
ক্যামেরা দিয়ে তোলা হবে
সাদাকালো তার চিত্র।
ফোকাস করা হল একাকীত্বের উপর
দেখলাম একটা ত্রিভুজ,
যার মধ্যে নেই বিন্দু
অদৃশ্য আকারে নিখোঁজ।
উপপাদ্য ও সম্পাদ্য গড়মিল
বিয়োগফল শূন্য,
চতুর্ভূজ তাই গিয়েছে বনে
বিন্দুকে খোঁজার জন্য।
চতুর্ভূজের সমান্তরাল রেখাগুলো
হয়ে আছে বাঁকা,
বিন্দু ছাড়া বৃত্ত হল
রহস্যময় আঁকা।

অনুভূতি ২

দূর পাহাড়ের চূঁড়ায়  বসে কে যেন আমায় ডাকছে,
কে যেন আমায় দেখে হাতছানি দিচ্ছে ,
জানি না কে সে।
তবুও বড্ড পরিচিত লাগছে তাকে,
মনে হচ্ছে সে আমার অনেক কাছের
যেন সে আমার প্রিয়তমা,
অথবা অন্য কোন প্রিয় মানুষ।
যে কী না অনেক পরিচিত
বহুকাল ধরে য়ার সাথে আমার পরিচয়।
কিন্তু অন্ধকারের কালো রশ্মিতে
পরিষ্কার দেখা যাচ্ছেনা তার মুখ খানি,
আঁচ করলাম সে বোধ হয় হাসছে,
দূরত্বের ব্যবধানে শোনা যাচ্ছেনা
তার অট্টহাসির জোড়ালো আওয়াজ,
অথবা বোধহয় সে কাঁদছে,
হয়ত সে আমার উপর নারাজ।
আর না হয় সে এমনেতেই
বসে রয়েছে দূর পাহাড়ের চূঁড়ায়
হয়ত সে দেখতে এসেছে আমি কেমন আছি।
জানি না আমার কন্ঠস্বর সে শোনবে কী না
তবুও জোড়ালো গলায় বলছি চিৎকার করে
শোন, আমি ভালো আছি, বেঁচে আছি।

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৩

চলছে গাড়ি যাত্রা বাড়ি


চলছে গাড়ি যাত্রা বাড়ি,
পাহাড়-পর্বত দিচ্ছে পাঁড়ি,
দুটি পাতা একটি কুড়ি,
সঙ্গে করে মাটির হাঁড়ি,
সামনে এল একটি নারী,
পরনে তার লাল শাড়ী,
কিনেছে সখী কাঁচের চুড়ি,
পকেট থেকে হয়েছে চুরি,
কে করলো দুষ্টু বুড়ি,
খাইবে নাকী চিড়া-মুড়ি,
বেশি খেলে বাড়বে ভুড়ি,
ফুলেছে ব্যথায় দাঁতের মাড়ি,
নদীর তীরে ভাসছে তরী,
বাজিয়ে গান ভিন্ন সূরি,
চলছে গাড়ি যাত্রা বাড়ি,
গন্তব্য কোথায় অচিনপুরী।

আমি ৫

মানব চিড়িয়াখানায়
এক বিচিত্র প্রাণী আমি,
যার কাছে নিজ স্বার্থ
সর্বাপেক্ষা দামি।

নিজ স্বার্থে স্বার্থপর আমি
কিছুটা প্রতারক,
বহুরুপে গঠিত আমি
কলঙ্কের বাহক।

যার মনে হিংসা
ধীরেধীরে বিকশিত,
কু-কাজে আমার ভাবনা
অবিরাম সম্প্রসারিত।

অহংকার আমার মনে
গুপ্ত এবং বিরাজমান,
অদৃশ্য অহংকারের ছাপ
লুকানো তার প্রমাণ।

নিজ ইচ্ছায় প্রকাশ্য আমার
অস্তিত্বকর আচরণের প্রচারণা,
নিজে মুখে আমার ভাল-মন্দের
পার্থক্যমূলক সমালোচনা।

একেক সময় আমি হতভাগ
অযৌক্তিক আমার কর্মকাণ্ড,
ভাবনার জগতে ভাবার সময় কোথায়
আমি গঠিত, না লন্ড-ভন্ড।

রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৩

প্রেমিক-প্রেমিকা ২

প্রেমিকার মন খারাপ
তার প্রেমিক দিয়েছে তার হৃদয়ে আঘাত,
আঘাতের কষ্টে কেঁদেছিল প্রেমিকাটি
সাড়াটি অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত।
তার উজ্জ্বল দুটি চোখ
পরিণত হয়েছিল ঝর্ণায়,
ভেসেছিল তার হৃদয়
চোখের জলে বন্যায়।
কাঁচের তৈরি তার হৃদয়
আঘাতে ভেঙ্গে দুই ভাগ,
যে হৃদয়ে প্রেমিকের জন্য প্রেম ছিল
আলাদা করে বিভাগ।

অবুঝ সেই প্রেমিক
বুঝেনি প্রেমিকার প্রেমের মর্ম,
বরং তার প্রেমিক হৃদয়ে দিয়েছে আগাত
অস্ত্র আঘাতজনিত কর্ম।
সেই আঘাতে আহত হৃদয়
প্রতিবাদ জানায়,
মুখ ফোটে প্রেমিকা বলেনা কিছু
সে শুধু কাঁদে ব্যর্থ ইশারায়।
তার চোখের ইশারা বুঝতে
অক্ষম প্রেমিক,
প্রেমিকার কষ্টে
সে পথ হারা পথিক।
সে তার কৃতকর্মে
প্রেমিকার কাছে অনুতপ্ত,
নিজের কাছে সে নিজে
তিক্ততায় লজ্জিত।
সে জানে তার প্রেমিকার হৃদয়
পুষ্পের মত কচি,
প্রেমিকার ভাঙ্গা হৃদয় জোড়া লাগাতে
চালায় সে অভিনব কর্মসূচি।
এইভাবে চলে খানিকক্ষণ
প্রেমিক-প্রেমিকায় মন কষাকষি,
তবুও তারা দুজন কাছে থাকে
হাতে ধরে দু'নয়নে পাশাপাশি।