সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৩

পশুত্ব

মনুষ্যত্ব ছিন্ন করে
পশুত্ব করবো বরণ,
পশুত্বকে ডাকবো কাছে
মনুষ্যত্বের হবে মরণ।
পশুত্ব নিয়ে সাজাবো জীবন
তাতেই বড় সুখ,
মনুষ্যত্ব লাগেনা ভালো
পশুত্ব চাই আসুক।
অসহ্যকর মনুষ্যত্বে
মানুষ বলে গন্য,
পশুত্ব ভালো লাগে
পশু হয়ে বন্য।
মনুষ্যত্ব ত্যাগ করে
হব কঠোর মানব,
নিষ্ঠুরতায় নিষ্ঠুর হব
পশুত্বে হব দানব।

ভাল লাগে

ভাল লাগে আকাশ হতে পড়ন্ত বৃষ্টি,
ভাল লাগে সূর্যের আলো কড়া রোদে মিষ্টি।
ভাল লাগে রাতের বেলা শিয়ালের ডাক,
ভাল লাগে বেড়াতে আসা অতিথি পাখির ঝাঁক।
ভাল লাগে পথের ধারে জমে থাকা বালি,
ভাল লাগে কলম থেকে বেড়িয়ে আসা কালি।
ভাল লাগে গ্রীষ্মতে আলতো ঠান্ডা হাওয়া,
ভাল লাগে অভিমানী মনের গভীরে আসা-যাওয়া।
ভাল লাগে নৃত্যের তালে গিটারের সূর,
ভাল লাগে শিশুর মুখে প্রবিত্র হাসির নূর।
ভাল লাগে জলেভাসা লাল দুটি নয়ন,
ভাল লাগে লেখা কবিতায় মৃত কয়েকটি চয়ন।
ভাল লাগে  ব্যর্থ  প্রেমে কষ্টের যত গান,
ভাল লাগে সুপারি দিয়ে মিষ্টি জর্দায় পান।
ভাল লাগে জেগে থাকা মনেতে বুনো আশা,
ভাল লাগে ভালবেসে একটু ভালবাসা।

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৩

প্রেমিক-প্রেমিকা ৩

লিখতে বসলাম প্রেমিক-প্রেমিকার নতুন পরিচ্ছেদ,
প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে হয়েছে এখন বিচ্ছেদ।
এই বিচ্ছেদ চিরস্থায়ী, কাগজের মতন ছিঁড়ে ফেলেছে প্রেমের বন্ধন,
দুজনের তাতে নেই চোখে কান্না, হৃদয়ে অশ্রুহীনা ক্রন্দন।
মধুর তাদের প্রেমের সম্পর্কে নেই এখন মধুময় স্বাদ,
কাল বৈশাখী ঝড়ে হারিয়ে গেল প্রেমের সকল প্রবাদ।
তারা দূজন চলছে তাই দুই পথে, তারা দুজন তাই দুদিকে,
তাদের প্রেমের বিষাক্ত বিষ গ্রাস করছে পরস্পরকে।
তবে প্রেমের বিষাক্ত এই বিষে কেউ যায়না মারা,
ভেঙ্গে যায় শুধু প্রেমের তাজমহল, যা বহুদিনে গড়া।

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৩

ঘুমকুমারী

ঘুমের দেশের ঘুমকুমারী
দিয়েছে আজ ফাঁকি,
গভীর রাতে জেগে আমি
ঘুমের ছবি আঁকি।
দুটি পাতা আমার চোখের
চায়না হতে এক,
আমি ছাড়া সবার চোখে
ঘুমকুমারী মেরেছে ঘুমের পেরেক।
নিরব রাতে আমার তাই
পায় হটাৎ কান্না,
ঘুমকুমারী আসেনা চোখে
নিয়ে ঘুমের বন্যা।
বাধ্য হয়ে আমি থাকি 
রাতের সাথে জেগে,
ঘুমকুমারী ঘুমের দেশে
ক্ষেপেছে ভিষন রেগে।
ঘুমকুমারী আসেনা চোখে
পাইনা তার দেখা,
ঘুমের দেশে ঘুমকুমারী
আমায় ছাড়া একা।
ঘুমকুমারী ঘুমের দেশে
না জানি আছে কেমন,
হয়তো সে আছে ভালো
আমি ভাবছি যেমন।
তারই ভাবনায় ঘুম আসেনা
আমার দুটি চোখে,
ড্রইং খাতায় রেখেছি তাই
ঘুমের ছবি এঁকে।

বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৩

কবিতা আবৃত্তি

কৃতকর্মে অনুতপ্ত কবি
শুরু করেছেন কবিতা আবৃত্তি,
প্রতিটি কবিতায় পূর্ণজন্ম
প্রতিটি ছন্দের পূনরাবৃত্তি।
অচেতন ছিল কবিতাগুলো
এতদিন জড় পদার্থ,
কবিতা আবৃত্তিতে কবির
নেই মনে বিভ্রান্ত।
অবিরামভাবে কবি তাই
করে যাচ্ছেন কবিতা আবৃত্তি,
লেখা কবিতাগুলো কবিতার জগতে
কবিতা বলে পেলো স্বিকৃতি।
দাঁড়ি, কমা ও সেমি-কোলনের ব্যবহারে
কবিতা আবৃত্তি শ্রুতিমধুর,
শ্রীময় উচ্চারিত কবিতার ধ্বনি
যেমনটা শ্রীযুক্ত হয় মুখমণ্ডল নব বিবাহিত বধূর।

অভিশপ্ত ভালবাসা

অভিশপ্ত ভালবাসা
তীলে তীলে দিয়ে যাচ্ছে ব্যথা,
কেমন করে সইবো এর কষ্ট
হৃদয়ে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে গাঁথা।
ভালবাসার মানুষ সরিয়েছে তার হাত
ছিঁড়েছে আত্মার বাঁধন,
অভিশপ্ত ভালবাসা দিয়েছে গাঁয়ে
মৃৃত লাশের সাদা কাফন।
মৃত ভালবাসা মনেতে অচল
রুক্ষ ভালবাসার মুখ,
নিষ্পাপ ভালবাসা আর নেই বুকে
অভিশপ্ত তার সুখ।

সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৩

জ্যামিতিক কবিতা

সাদা কাগজের উঠানে
পেন্সিল দিয়ে ময়ূর পক্ষীর মতন নূত্য,
নূত্যের তালে পরেছে ছাপ
কম্পাসে আঁকা বিত্ত।
বিত্তের গোল কাঠামোর ভেতর
বিন্দু একাকীত্ব,
ক্যামেরা দিয়ে তোলা হবে
সাদাকালো তার চিত্র।
ফোকাস করা হল একাকীত্বের উপর
দেখলাম একটা ত্রিভুজ,
যার মধ্যে নেই বিন্দু
অদৃশ্য আকারে নিখোঁজ।
উপপাদ্য ও সম্পাদ্য গড়মিল
বিয়োগফল শূন্য,
চতুর্ভূজ তাই গিয়েছে বনে
বিন্দুকে খোঁজার জন্য।
চতুর্ভূজের সমান্তরাল রেখাগুলো
হয়ে আছে বাঁকা,
বিন্দু ছাড়া বৃত্ত হল
রহস্যময় আঁকা।