মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪

রাত্রি জাগবো

রাত্রি জাগিতে নাই বারণ,
রাত্রি জাগি তাই অকারণ।
সময় গুনি সময়ের সাথে,
জেগে থাকি রোজ প্রভাতে।
স্বপ্ন দেখি মুক্ত চোখে,
মুক্ত মনের যুক্ত বুকে।
আঁধার আসিলে শঙ্কা জাগে,
রাত্রির বুকে চলিনি আগে।
আজই প্রথম আজই শেষ,
জেগি আছি তাই করেছি বেশ।
জাগবো আরও ইচ্ছে হলে,
পারলে থামাও নিজের বলে।

না বলা যত গোপন কথা

জীবনের গোপন কথাগুলো 
কোথায় লিখে রাখি,
না বলা কথাগুলো 
আজও বলার বাকি।
শত কথা বলি নিশিতে দিনে
তবু বলা হয় না গোপন কথা,
জেগে জেগে কেঁদেছি
জানি না কেন অযথা।
ফুরিয়ে গেছে বিষাদের রাত
সাথে আমিও ফুরিয়ে গেছি,
গোপন কথা মনেতে রেখে 
গোপনে কষ্টে আছি।
বলিনি কখনো, কেউ জানে না
জানবেনা হয়ত,
কত কথা রেখেছি মনে 
লুকিয়ে রেখেছি গুপ্ত।
সুপ্ত মনের কাকতারুয়া 
গোপনে মরে যাবে,
বাসনা যত স্বপ্ন তত
তাতেই কষ্ট সবে।
লিখতে গিয়ে তমে যায় কলম
ঝরেনা তার কালি,
কালির বদলে রক্ত ঝরে
ভিজে মনের চূঁড়াবালি।
আমিও সই যন্ত্রণা নিরবে
মরি গোপনে বারেবার,
বেঁচেও বাঁচি না গোপন কথা
ছিঁড়ে খায় শতবার।
আমি তো আর নেই আমি
চলে গেছে চাকচিক্য,
বেকার লাগে নিঃস্বতায় 
নিঃস্ব পাথরের বক্ষ।
আমি না হয় বলবো একদিন
গোপন কথার রহস্য,
সেইদিন কি আবার ফিরে পাবো 
বেঁচে থাকার উৎস।
যদি না পাই সেই কারণে
এই প্রাণ চলে যায়,
দূঃখ নেই হে আমার প্রিয় 
মনে রেখো আগেই বলেছি বিদায়।

অলেখা একটি গল্প

গল্প লিখতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত গল্প লেখা হল না
ভাবলাম গল্পের শুরুটা হবে আমার গল্পের আলোকে
শেষের দিক হবে ভিন্ন।

গল্পের মধ্যে থাকবে আমার গল্প, তোমার গল্প,
দুজনের ছোট্ট ছোট্ট ভালো লাগার গল্প,
ভালবাসার গল্প।

গল্পের মধ্যে একটা মোড় থাকবে
সেখানে তুমি হারিয়ে যাবে,
আমি একা হয়ে কিছু সময় কাটাবো
আমি কাঁদবো, ভেঙ্গে সবকিছু চূঁরমার করবো।

তারপর একদিন তুমি ফিরে আসবে
নিজের হাতে মুছে দিবে আমার চোখের অশ্রু।

কিন্তু গল্প তো গল্পোই, 
আমার বাস্তব আমার গল্পের বিপরিত।

নিজের বাস্তব দেখে নিজেরি কান্না পায়
তাই গল্প লিখতে গিয়েও গল্প লেখা হয় না।

তোমাতেই প্রেম ৬

ভালবাসি এই ছোট্ট কথা বলবো তোকে আজ,
তোর জনে্য ছেড়ে দেবো সকল কর্ম-কাজ।
সারাদিন তোর প্রেমে গেয়ে যাবো গান,
ফুল দিবো যখন তখন করবি অভিমান।
রোজ রাতে কথা বলবো দীর্ঘ সময় ফোনে,
ভালবাসি মিষ্টি সুরে বলবো তোরি কানে।

তোর অপেক্ষায় রাত্রি জেগে ফুরাবো সারারাত,
দেখা হলে শক্ত করে ধরবো তোর হাত।
প্রেমের পরীক্ষা নিবি তুই বারবার অবিরত,
আমার প্রেমে ভালবাসা মাপা যাবেনা রয়েছে কত।

বৃষ্টি এলে বৃষ্টিতে ভিজবো দুজনে একসাথে,
ভালবাসি বলবো তখন মনের গভীর স্থান হতে।
হাঁটবো দুজনে একসঙ্গে একই পথের একধারে,
মিষ্টি প্রেমের প্রলাপ হবে দুটি মনের এক সুরে।

জীবন তরী

জীবন নামক ছোট্ট তরী 
ভাসিয়ে দিলাম জলে,
স্রোত এসে ধাক্কা দিল 
নিজের কৌতুহলে।
উজান ভাটার টানে শুকিয়ে গেল 
মনের শক্ত আঘাত,
চাঁন্দের সামনে আসলো হটাৎ 
জোঁনাকহীন রাত।
ঘোর অন্ধকারে জীবন তরীতে 
ধরেছে ধরি গতি,
চোখের পিছে পাল্টে গেছে 
প্রিয় লজ্জাবতি।
তাকে নিয়ে স্বপ্ন ছিল 
ভাসবো এক স্রোতে,
সেই স্বপ্ন আর দেখে না নয়ন 
সকাল সন্ধ্যা রাতে।
জীবন তরীতে একলা আমি
সঙ্গী আমার ভয়,
বুকের ভেতর আস্ত খালি 
নেই সঞ্চিত প্রণয়।
ঘুরে ফিরে যাযাবর হৃদয় 
বিশ্রাম চায় ঘুমে,
নিদ্রা আসে না আকাশ-কুসুম 
ভাবনা যখন নামে।
ভাবুক আমি জীবন তরীতে 
অংক কষে ভাবি,
চাওয়া-পাওয়ার বিবেক বন্দী রেখে 
খুয়া গেছে তার চাবি।
জীবন তরীতে নেমেছি তাই 
হারানো বিবেকের খোঁজে,
পাই না বিবেক পাষাণ আমি 
নিজেই নিজের মাঝে।

প্রভুর ঠিকানা

প্রভু দেখেনি তোমায় কেউ কভু,
মান্য করে সবাই তবু।
এ কেমন কথা কেমন বিধান,
প্রভু কি আছে কি তার প্রমাণ।
প্রভুকে ডাকি পাইনা সাড়া,
প্রভু বলেন তোমরা কাড়া।
আমরা প্রভু পূঁজারী তোমার জপি তোমার নাম,
তোমার নামে মসজিদ মন্দির গড়ি অবিরাম।
আমরা তোমার সেরা সৃষ্টি, মানুষ পরিচয়,
পশু হতে জগন্য মোরা, মনুষ্যত্বের করি ক্ষয়।
আমরা প্রভু ঝগড়া করি, ধর্ম নিয়ে করি খেলা,
রক্ত জরাই গঙ্গার জলে ভাসাই লাশের ভেলা।
তবু প্রভু তোমার দেখা পাইনা একবার,
তোমার ঠিকানা খোঁজায় মোরা ব্যর্থ বারবার।

আমার আমি

অন্ধকার আমার পথ
পথের অসংঙ্গিত গানে,
কি আছে আমার ভেতর 
এই কথাটি কি কেউ জানে।
জানে কি কে আমি
কি আমার আসল রূপ,
মনের ভেতর দীর্ঘস্থায়ী
অশ্রুঝরা জলকূপ।
কেউ কি জানে হাসি আমি
কি কারণে কোন পথে,
বাঁধা আসলে আসুক বাঁধা
চলবো আমি নিজ রথে।
বলবো আমি যা বলেনা কেউ
চুক্ষুলজ্জা দেয়া বাঁধা,
স্নান করবো নোংরা জলে
গায়ে মাখিয়ে কাঁদা।
ভয় দেখায় দুষ্টু সমাজ
ভয় দেখায় পরিবার,
ধর্মের নেই কর্ম
মানি আমি যা আমার।
মানি নিজেকে নিজেই আমি
নিজেই নিজের ধাতা,
মৃত্যু আসবে ধ্বংস নিয়ে
ঝরবে গাছের পাতা।
যে গাছের সবুজ পাতা
জপে আমার নাম,
বেকার মনের সারক্ষণ
যুক্তিহীন কাম।
ভবিষ্যৎ কি জানি না
মানি না যা অদৃশ্য,
গড়বো আমি নিজের হাতে
নিজেই নিজের বিশ্ব।